বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো?

খন্দকার ওবায়দুল্লাহ

প্রবাস

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও খুলে দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। সরকারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর দুদেশের

2026-07-08T20:37:31+00:00
2026-07-08T20:37:31+00:00
 
  বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬,
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
প্রবাস
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো?
খন্দকার ওবায়দুল্লাহ
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও খুলে দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। সরকারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর দুদেশের আলোচনায় এ অগ্রগতি হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ও আশা করছে, আগামী এক থেকে দুমাসের মধ্যে নতুন করে কর্মী পাঠানো শুরু হবে। 

তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু শ্রমবাজার খোলা নয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন— এবার কী পরিবর্তন হচ্ছে, কেন এতবার শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কী কোনো আশার বার্তা বয়ে আনছে?

কেন গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার?
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম বড় কর্মসংস্থানের গন্তব্য মালয়েশিয়া। দেশটির নির্মাণ, উৎপাদনশিল্প, পাম অয়েল বাগান, কৃষি, সেবা, পরিচ্ছন্নতা, পরিবহন ও উৎপাদনমুখী বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিন ধরেই বিপুলসংখ্যক বিদেশি শ্রমিক কাজ করছেন। শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণে মালয়েশিয়া নিয়মিতভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে, যেখানে বাংলাদেশ অন্যতম প্রধান জনশক্তি সরবরাহকারী দেশ।

তুলনামূলক ভালো বেতন, ওভারটাইমের সুযোগ, নিয়মিত কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি কাজের সুযোগ থাকায় বাংলাদেশি কর্মীদের কাছে মালয়েশিয়া একটি আকর্ষণীয় শ্রমবাজার হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর হাজার হাজার কর্মী বৈধভাবে সেখানে গিয়ে নিজেদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সচল থাকলে দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে স্বল্প দক্ষ ও অর্ধদক্ষ কর্মীদের বিদেশে কাজের সুযোগ বাড়ে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে শ্রমবাজারটি শুধু প্রবাসী কর্মীদের জীবিকার সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, বৈদেশিক আয় এবং কর্মসংস্থান নীতির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু বা বন্ধ হওয়ার প্রভাব ব্যক্তি, পরিবার এবং জাতীয় অর্থনীতি— তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।



কেন বারবার বন্ধ হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার?
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের সম্পর্ক প্রায় তিন দশকের পুরোনো। তবে এই সময়ে একাধিকবার নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। প্রতিবারই এর পেছনে অনিয়ম, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং দুই দেশের নীতিগত মতপার্থক্যের মতো কারণ সামনে এসেছে।

প্রথমবার ২০০৮ সালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে মালয়েশিয়া। প্রায় আট বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৬ সালে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি প্লাস) ব্যবস্থার আওতায় আবার শ্রমবাজার চালু হয়। সে সময় নিয়োগে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্য থাকলেও পরবর্তীতে কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি।

এরপর ২০১৮ সালে আবারও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ স্থগিত করে মালয়েশিয়া। সে সময় অভিযোগ ওঠে, সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোয় একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এর ফলে নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায়, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বাড়তে থাকে। এসব কারণে মালয়েশিয়া নতুন করে কর্মী নেওয়া বন্ধ রাখে।

দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২১ সালের শেষ দিকে দুদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয় এবং ২০২২ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশি কর্মীরা আবার মালয়েশিয়ায় যেতে শুরু করেন। তবে এ সময়ও নিয়োগে মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। অনেক এজেন্সি বৈষম্যের অভিযোগ তোলে, আর কর্মীদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।

সবশেষ ২০২৪ সালের ১ জুন মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন করে প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। দেশটির নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী প্রবেশ সম্পন্ন না হওয়া, নিয়োগপ্রক্রিয়ার জটিলতা এবং প্রশাসনিক নানা কারণে হাজারও কর্মী ভিসা পেয়েও মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি। সরকারি হিসাবে প্রায় ৮ হাজার কর্মী বিমান টিকিট, মেডিকেল ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেও দেশটিতে যেতে পারেননি।

এরপর থেকে দুদেশের মধ্যে শ্রমবাজার পুনরায় চালু, আটকে থাকা কর্মীদের পাঠানো, রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন, কর্মী নিয়োগের স্বচ্ছতা এবং অভিবাসন ব্যয় কমানোর বিষয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলে। সরকার বলছে, নতুন ব্যবস্থায় সিন্ডিকেটমুক্ত ও স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় জবাবদিহি, ডিজিটাল তদারকি এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যাবে।

এবার কী পরিবর্তন আসছে?
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এবার রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হচ্ছে। আগে সীমিতসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর অভিযোগ ছিল। এতে সিন্ডিকেট তৈরি হয় এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। এবার বাংলাদেশ সরকার নিজেই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। যদিও বাস্তবে এটি কীভাবে কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।

এদিকে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা আর্থিক লেনদেন না করার আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বুধবার (৮ জুলাই) জারি করা এক জরুরি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগে কোনো ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা করানো বা এ-সংক্রান্ত অর্থ লেনদেন থেকেও বিরত থাকতে হবে। 

বিজ্ঞপ্তিতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, সরকারি অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কোনো এজেন্সি মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না। একই সঙ্গে কোনো কর্মীর পাসপোর্ট সংগ্রহ, মেডিকেল পরীক্ষা করানো কিংবা কোনো ধরনের অর্থ গ্রহণ বা লেনদেনও করা যাবে না।



আটকে থাকা কর্মীদের কী হবে?
২০২৪ সালের ১ জুন মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েন হাজারও বাংলাদেশি কর্মী। তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে ভিসা পেয়েছিলেন, মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন, প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং বিমান টিকিটও কেটে রেখেছিলেন। কেউ কেউ বিদেশ যাওয়ার খরচ জোগাতে ঋণ নিয়েছেন, জমি বিক্রি করেছেন বা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মী সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশটিতে যেতে পারেননি। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে এসব কর্মীকে পর্যায়ক্রমে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডকে (বোয়েসেল)। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এখনও কয়েক হাজার কর্মী অপেক্ষায় রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন করে শ্রমবাজার চালু হওয়ায় আটকে থাকা কর্মীদের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা জরুরি। কারণ, তাদের অনেকের ভিসা, মেডিকেল সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন অপেক্ষা করায় অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাই দ্রুত বাকি কর্মীদের পাঠানোর বিষয়ে দুদেশের সমন্বয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও অভিবাসন– সংশ্লিষ্টরা।

কী কী চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে? 
শ্রমবাজার খুলে যাওয়ার ঘোষণা ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। দালাল ও সিন্ডিকেট মুক্ত শ্রমবাজার নিশ্চিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার যৌথভাবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এ প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত খরচ কমানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় সরাসরি বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথা জানায়। দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানন জাতীয় দৈনিক দ্য স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিয়োগব্যবস্থার কাঠামো তখনও চূড়ান্তকরণের পর্যায়ে ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তবে পরে ওই ডিজিটাল নিয়োগব্যবস্থার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা বিতর্ক ও আপত্তি ওঠায় মালয়েশিয়া সরকার তা বাতিল করে।

বিশ্লেষকদের মতে, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ঘোষণা ইতিবাচক হলেও এর সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কর্মীদের নিজ ভাষায় চুক্তিপত্র বুঝে স্বাক্ষরের সুযোগ, সহজ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং নিয়োগ-পরবর্তী শ্রম অধিকার পর্যবেক্ষণ জোরদার না হলে দালালচক্র, অতিরিক্ত ব্যয় ও চুক্তি লঙ্ঘনের মতো পুরোনো সমস্যাগুলো নতুন ব্যবস্থাতেও ফিরে আসতে পারে।

বায়রার সাবেক মহাসচিব মো. ফখরুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটমুক্ত ও স্বল্প ব্যয়ের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশসহ আরও ১২টি দেশ থেকে নতুন করে কর্মী নেওয়ার জন্য কোটা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে কর্মী নিয়োগ কোন পদ্ধতিতে হবে, কারা এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে এবং এটি সিন্ডিকেটমুক্ত হবে কি না— এসব বিষয় টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখন বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে আলোচনা হবে। সেই আলোচনায় এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে না পারে এবং কর্মীরা কম খরচে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, অতীতের জটিলতা কাটিয়ে একটি স্বচ্ছ, কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া চালু করাই নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।


অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। তাই বিদেশে দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থান বাড়ানো দেশের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পর বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে মালয়েশিয়াও গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে উঠে এসেছে। জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ফলে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রেমিট্যান্স-উৎস দেশে পরিণত হয়েছে। ফলে দেশটির শ্রমবাজার পুরোপুরি সচল হলে ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


  বিষয়:   মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার  বিনা খরচ  কর্মী  ঘোষণা  সময়ের আলো  সরকার  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান 


Loading...
Loading...
প্রবাস- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: