পর্যাপ্ত পানি না খেলে শিশুদের ভয়ংকর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তীব্র পানিশূন্যতা, মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। ঠিকমতো পানি না খাওয়ার দরুণ কিডনি বিকল, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, মস্তিষ্কের ক্ষতি, খিঁচুনি এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো ভয়াবহ সমস্যা হতে পারে।
পানিশূন্যতার ভয়াবহ প্রভাব
তীব্র পানিশূন্যতা ও মৃত্যুঝুঁকি: শরীর থেকে বেশি পানি বেরিয়ে গেলে হাইপোভোলেমিক শক বা রক্তের পরিমাণ কমে গিয়ে শরীর বিকল হয়ে যেতে পারে। তীব্র গরমের কারণে অত্যধিক ঘাম, বমি বা ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে বেশি পরিমাণে পানি বেরিয়ে যায়। এতে বড়দের চেয়ে ছোটরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
কিডনি বিকল: দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতার কারণে কিডনিতে পাথর বা কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তীব্র পানিশূন্যতা শরীরের বর্জ্য নিষ্কাশনে কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই হঠাৎ কিডনি বিকল বা একিউট কিডনি ইনজুরি ঘটতে পারে। শরীর থেকে প্রয়োজনীয় তরল বেরিয়ে গেলে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যায়, যা স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।
মস্তিষ্কের ক্ষতি ও খিঁচুনি: শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের (যেমন সোডিয়াম, পটাশিয়াম) ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মস্তিষ্কের ক্ষতি ও খিঁচুনি হতে পারে। মূলত তিন ধরনের ডিহাইড্রেশন হয়, হাইপোটনিক (শরীরে শুধু ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি হয়), হাইপারটনিক (শরীরে পানির ঘাটতি হয়) এবং আইসোটনিক (শরীরে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট, উভয়ের ঘাটতি হয়)।
হিট স্ট্রোক: গরমে পর্যাপ্ত পানি না খেলে শিশুর প্রচণ্ড মাথাব্যথা, বমি এবং হিট স্ট্রোকের মতো অবস্থা হতে পারে।
পেটের সংক্রমণ: গরমে শিশুদের, বিশেষ করে ৩-৪ বছর বয়সীদের খাবার হজম করতে অসুবিধা হয়। এতে তারা পেটের বিভিন্ন রকম সংক্রমণে ভোগে।
পানিশূন্যতার লক্ষণ
আপনি কীভাবে বুঝবেন, আপনার শিশু পানিশূন্যতায় ভুগছে কী না? এরজন্য কিছু লক্ষণ খেয়াল করুন-
- পানির ঘাটতি হলে শিশুদের ঠোঁট ও মুখের চারপাশ শুকিয়ে যায়।
- কান্নার সময়ে চোখ দিয়ে বেশি পানি পড়ে না।
- পানির ঘাটতি দেখা দিলে তার প্রস্রাব হলুদ রঙের হবে। বিশেষ করে গরমের দিনে শিশুর প্রস্রাবের দিকে বেশি নজর রাখা জরুরি। শিশু যদি নির্দিষ্ট সময় পরপর প্রস্রাব না করে, তাহলেও বুঝবেন তার শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে।
- পানিশূন্যতা দেখা দিলে শিশুদের চঞ্চলতা কমে যায়। তারা সারাক্ষণ ঝিমিয়ে থাকে।
- এমনকি শিশুর মেজাজ খিটখিটে হয়েও যেতে পারে।
প্রতিকার
যেকোনো অসুখ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। তবু, যদি প্রতিরোধ করা সম্ভব না হয়, তাহলে অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে প্রতিকার করতে হবে। শিশুর শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে।
- শিশু যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করে, সেদিকে নজর দিন।
- এক বোতল পানিতে এক প্যাকেট ওআরএস মিশিয়ে রাখুন, মাঝে মাঝে সেই পানি শিশুকে পান করান। ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও খনিজ উপাদান (ইলেক্ট্রোলাইট) বেরিয়ে গেলে, তা পূরণ করতে এবং পানিশূন্যতা রোধে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- যদি এমন হয়, শিশু যে মাত্রায় পানি পান করছে তার বেশি পানি শরীর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ওষুধ খাওয়ার পরেও বমি বন্ধ না হলে, ইনট্রাভেনাস রিহাইড্রেশনের জন্য শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করাতে হতে পারে।
/মহু