সুতোমু ইয়ামাগুচি- এক অদ্ভুত কপালগুণে যিনি পরমাণু হামলার নিশ্চিত মৃত্যু থেকে দু-দুবার বেঁচে ফিরেছেন। জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি, দুই শহরেই যখন পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটে, সুতোমু তখন সেখানেই ছিলেন। সরকারি হিসাবে তিনিই বিশ্বের একমাত্র ব্যক্তি, যিনি দুটি পরমাণু হামলা থেকেও বেঁচে ফিরেছেন। তবে এই অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরার কারণেই বিবিসির কাছে তার তকমা জুটেছে ‘দ্য আনলাকিয়েস্ট ম্যান ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ বা পৃথিবীর সবচেয়ে অভাগা মানুষ হিসেবে।
১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সুতোমু পেশাগত কারণে হিরোশিমায় ছিলেন। সে দিনই তার কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। স্টেশনে যাওয়ার পথে অফিসের এক জরুরি পরিচয়পত্র ফেলে আসায় তিনি আবার অফিসের দিকে রওনা হন। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যখন ‘লিটল বয়’ হিরোশিমায় আঘাত হানে, সুতোমু তখন বিস্ফোরণস্থল থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে। প্রচণ্ড আলোর ঝলকানিতে তিনি ছিটকে পড়েন, কানের পর্দা ফেটে যায় এবং শরীর মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। সেই অবস্থাতেই কোনোমতে নিজেকে টেনে নিয়ে তিনি স্টেশনে পৌঁছান এবং বাড়ির পথে ট্রেনে চেপে বসেন।
সুতোমুর বাড়ি ছিল নাগাসাকিতে। হিরোশিমার সেই নরক থেকে ফিরে ৯ আগস্ট তিনি যখন নিজের অফিসের বসকে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দ্বিতীয় হামলাটি হয়। সকাল ১১টায় নাগাসাকির বুকে আছড়ে পড়ে দ্বিতীয় পরমাণু বোমা ‘ফ্যাট ম্যান’। এবারও অলৌকিকভাবে বিস্ফোরণস্থল থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে থাকা সুতোমু বেঁচে যান। শরীরে মারাত্মক ক্ষত আর বিকিরণের প্রভাব নিয়ে তিনি আবারও লড়াই শুরু করেন জীবনের সঙ্গে।
পরবর্তীতে সুতোমু সাধারণ জীবনে ফেরার চেষ্টা করেন। অনুবাদক এবং জাহাজের নকশাকার হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু পরমাণু বিকিরণের প্রভাব তার শরীরে রয়েই গিয়েছিল। শেষ বয়সে তিনি ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হন। ৮০ বছর বয়সে তিনি সিদ্ধান্ত নেন তার এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বিশ্ববাসীকে জানাবেন, যাতে মানুষ পরমাণু অস্ত্রের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হয়। তার আত্মজীবনী ও তাঁকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র সারাবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
মৃত্যুর আগে জাপানের সরকার তাকে দুই বার পরমাণু হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। ২০১০ সালে ৯৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
/কহু