আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজা উপত্যকায় পরিকল্পিতভাবে খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা বাধাগ্রস্ত করার গুরুতর অভিযোগ এনেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিধিনিষেধের ফলে গাজায় একটি ‘কৃত্রিম পুষ্টিহীনতা সংকট’ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব নবজাতক শিশু এবং অন্তঃসত্ত্বা ও দুগ্ধদানকারী নারীদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহভাবে পড়ছে।
এমএসএফ-এর জরুরি বিষয়ক মেডিকেল রেফারেন্ট মার্স রোকাসপানা এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলেছেন, গাজার এই বর্তমান পুষ্টিহীনতা সংকটটি সম্পূর্ণরূপে মানবসৃষ্ট এবং ইসরায়েল সরাসরি এর জন্য দায়ী।
মেডিকেল চ্যারিটি সংস্থাটি তাদের এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত গাজার চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিচালিত বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে। ওই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পুষ্টিহীনতায় আক্রান্ত মায়েদের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে মৃত্যুহার এবং অকাল জন্মের (প্রি-ম্যাচিউরিটি) হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
ইসরায়েল কর্তৃক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে অবরোধ এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে উপর্যুপরি হামলার কারণে গর্ভবতী নারীদের গর্ভপাতের ঘটনাও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমএসএফ-এর মতে, গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ফলে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রতিবেদনে গাজায় ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব থেকে জাতিসংঘকে সরিয়ে গত বছর যে নতুন বেসরকারি সংস্থা গঠন করা হয়েছিল, তার নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত এই বেসরকারি সংস্থাটি মূলত জাতিসংঘের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের বিকল্প হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও তা গাজার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যর্থ হয়েছে বলে এমএসএফ দাবি করেছে। ত্রাণ সরবরাহের এই নতুন কাঠামো গাজার জনগণের জন্য আরও বেশি মানবিক বিপর্যয় ও অনিশ্চয়তা বয়ে এনেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এমএসএফ আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী এবং একটি জনগোষ্ঠীকে ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারে রাখার শামিল। সংস্থাটি অবিলম্বে গাজায় পূর্ণাঙ্গ ও অবাধ ত্রাণ সরবরাহের সুযোগ দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষ করে মা ও শিশুদের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় এই কৃত্রিম সংকট গাজার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
সময়ের আলো/টিএইচ