রাওয়ালপিন্ডিতে প্রায় দুই বছর আগে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম বড় অর্জন হয়ে আছে। সেবার পাকিস্তানের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজও (২-০) জেতে। অতীতের সেই স্মৃতি এখনও তাজা টাইগারদের মনে।
তবে সময় বদলেছে, বদলেছে চ্যালেঞ্জ। এবার ঘরের মাঠে নতুন লক্ষ্য নিয়ে নামছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ সামনে রেখে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর স্বপ্ন এখন আরও বড়- আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকে চার বা পাঁচ নম্বরে তুলে আনা।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার ছিল দুদলের ট্রফি উন্মোচন। অনুশীলন শেষে সতীর্থরা যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছিলেন, তখনও কোচ ফিল সিমন্স, সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল ও স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করছিলেন শান্ত। উইকেট, একাদশ ও ম্যাচ পরিকল্পনা নিয়েই মূলত চলছিল আলোচনা। কিছুক্ষণ পর দলের ব্লেজার পরে মাঠে ফিরে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদের সঙ্গে সিরিজ ট্রফির উন্মোচন করেন টাইগার অধিনায়ক।
২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জয়ের স্মৃতি অবশ্য এখনও আত্মবিশ্বাস জোগায় বাংলাদেশকে। তবে শান্ত অতীতের সাফল্যে আটকে থাকতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘গত সিরিজটায় আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছিলাম। সেটা অতীত। ওই সিরিজ জয় অবশ্যই আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। কিন্তু ফল পেতে এই সিরিজে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। প্রত্যেকটা দিন ভালো ক্রিকেট খেললে ফল আমাদের পক্ষে আসবে। রেকর্ড নিয়ে চিন্তা করছি না। প্রত্যেকটা দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলা গুরুত্বপূর্ণ।’
গত মার্চেই বাংলাদেশ সফরে এসে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল পাকিস্তান। এবার আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে খেলতে এসেছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এখন পর্যন্ত দুদল মুখোমুখি হয়েছে ১৫ টেস্টে। যেখানে বাংলাদেশের জয় মাত্র দুটি। দুটি জয়ই এসেছে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে। তবে দুদলের সাতটি টেস্ট সিরিজের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র একটি, আর পাকিস্তান জিতেছে ছয়টি।
চলতি ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। একটি ড্র ও একটি হার নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের আট নম্বরে আছে টাইগাররা। তবে শান্তর লক্ষ্য আরও ওপরে ওঠা। তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। আগেরবার আমরা সাত নম্বরে শেষ করেছি। আমার মনে হয় এটা ভালো একটা অর্জন। আস্তে আস্তে এই জায়গাটাতে উন্নতি হচ্ছে, যেটা এর আগের চক্রগুলোতে হয়নি। এ বছর লক্ষ্য, আর একটু ভালো পারফর্ম করে চার-পাঁচ নম্বরে থাকা। এরকমই যদি শেষ করতে পারি, খুবই ভালো লাগবে।’
অবশ্য সেই পথ মোটেও সহজ নয়। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দল রয়েছে এই চক্রে। সামনে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের মতো কঠিন সিরিজও অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। শান্তও মানছেন কঠিন বাস্তবতা।
তিনি বলেন, ‘আগামীর দিনগুলোতে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। অস্ট্রেলিয়া, সাউথ আফ্রিকা সফর অনেক কঠিন হবে। আমি মনে করি যে সিরিজগুলো আমরা ঘরের মাঠে খেলব, সেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিপক্ষের শক্তি অনুযায়ী আমরা ওই ধরনের কন্ডিশন তৈরি করার চেষ্টা করব, বিশেষ করে উইকেটের ক্ষেত্রে।’
মিরপুরের উইকেট নিয়ে দুদলের মধ্যেই আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স বলেছেন উইকেট ভালো, আবার পাকিস্তান পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি এটিকে ‘প্রাণবন্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে উইকেট যেমনই হোক, নিজেদের বোলিং আক্রমণ নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী শান্ত।
বিশেষ করে পেস বিভাগে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে বাংলাদেশকেই সামান্য এগিয়ে রাখলেন তিনি। শান্ত বলেন, ‘পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টে আমি বলব যে দুদলেরই ভালো পেসার আছে। বাট আমাকে যদি জিগ্যেস করেন আমি বলব যে আমাদের পেস বোলিং অ্যাটাক হয়তো সামান্য একটু এগিয়ে থাকবে। লাস্ট কয়েক বছর যদি আমি দেখি ওরা যেভাবে বোলিং করছে। বাট পাকিস্তান অলওয়েজ আমরা যখন পাকিস্তান টিম নিয়ে কথা বলি সবসময় ওদের পেস বোলিংয়ের কথা উঠে আসে। এটা নিয়ে কোনো ডাউট নেই তারা খুবই ভালো দল এবং খুব ভালো পেস বোলিং সাইড।
বাট লাস্ট কয়েক বছর আমরা যেভাবে পেস বোলাররা বল করছি আমার মনে হয় এটা তাদের ক্রেডিট দিতেই হবে।’
প্রস্তুতির দিক থেকেও খুব একটা পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। যদিও বেশিরভাগ ক্রিকেটার সম্প্রতি সাদা বলের ক্রিকেটেই ব্যস্ত ছিলেন। নিউজিল্যান্ড সিরিজ শেষ করেই টেস্ট মিশনে যোগ দিয়েছেন কয়েকজন। তবু প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট শান্ত। তার ভাষায়, ‘সবসময় ওরকম প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়। সাদা বলে আমাদের বেশ কিছু ক্রিকেটার ছিল, কারণ লাল বলে যারা খেলে তারা লম্বা সময় ধরে প্রস্তুতি পর্বে আছে। ওই দিক দিয়ে আমি খুশি।’
দুই বছর আগে পাকিস্তানের মাটিতে ইতিহাস লিখেছিল বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে নতুন স্বপ্ন, নতুন লক্ষ্য। শুধু সিরিজ জয় নয়, টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার মিশনে নামছে শান্তর দল।
সময়ের আলো/জেডি