ফিলাডেলফিয়ায় ৯৮-এর স্মৃতি

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ। স্বাগতিকদের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কিংবদন্তি গোলরক্ষক হোসে লুইস চিলাভার্টের নেতৃত্বে অবিশ্বাস্য এক রক্ষণ গড়ে তুলেছিল

2026-07-04T08:33:17+00:00
2026-07-04T08:33:17+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
খেলা
ফিলাডেলফিয়ায় ৯৮-এর স্মৃতি
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩৩ এএম 
সংগৃহীত ছবি
১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ। স্বাগতিকদের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কিংবদন্তি গোলরক্ষক হোসে লুইস চিলাভার্টের নেতৃত্বে অবিশ্বাস্য এক রক্ষণ গড়ে তুলেছিল প্যারাগুয়ে। ১১৩ মিনিট পর্যন্ত ফ্রান্সকে গোলশূন্য আটকে রেখেছিল লাতিন আমেরিকার দলটি। কিন্তু ১১৪ মিনিটে লরাঁ ব্লাঁর করা বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ‘গোল্ডেন গোল’ ভেঙে দেয় প্যারাগুয়ের স্বপ্ন। সেই এক গোলেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের, আর ফ্রান্স পরে জিতে নেয় নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ। প্যারাগুয়ের ফুটবল ইতিহাসে সেই হার আজও অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি। প্রায় ২৮ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউটে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। এবারও মঞ্চ শেষ ষোলো, তবে গল্পটা ভিন্ন। ফ্রান্স এসেছে বিশ্বসেরার মর্যাদা ধরে রেখে শিরোপার পথে এগিয়ে যেতে, আর জার্মানিকে বিদায় দিয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত প্যারাগুয়ে নামবে পুরোনো ক্ষতের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রত্যয়ে।

ফ্রান্স এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। গ্রুপপর্বে টানা চার ম্যাচ জয়ের পর শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে সুইডেনকে ৩-০ গোলে সহজেই হারায় দিদিয়ের দেশমের দল। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে, আর একটি গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। পুরো টুর্নামেন্টে ফরাসিরা ১৩ গোল করেছে, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র দুটি। মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনার সঙ্গে তারাই একমাত্র দল যারা এখন পর্যন্ত শতভাগ জয় ধরে রেখেছে।

অন্যদিকে প্যারাগুয়ের যাত্রা ছিল নাটকীয়তায় ভরা। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর অনেকেই তাদের সম্ভাবনা শেষ বলে ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু কোচ গুস্তাভো আলফারোর অধীনে দলটি অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। গ্রুপপর্ব পেরিয়ে শেষ ৩২-এ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির মুখোমুখি হয় তারা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লা আলবিরোজা। হোসে কানালের সফল শেষ শট এবং গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের অনবদ্য পারফরম্যান্স ইতিহাস গড়ে দেয়। জয়ের পর খেলোয়াড়দের চোখের জল আর উচ্ছ্বাস যেন প্রমাণ করে দেয়, অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।

এই জয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনও। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে জার্মানি ছিল ১০ নম্বরে, আর প্যারাগুয়ে ৪১ নম্বরে। অর্থাৎ ৩১ ধাপ পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নেয় তারা। ১৯৯৪ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে র‌্যাঙ্কিং ব্যবধানের বিচারে এটি চতুর্থ বৃহত্তম অঘটন।

হেড-টু-হেড পরিসংখ্যান অবশ্য ফ্রান্সের পক্ষেই কথা বলে। দুই দলের পাঁচটি আন্তর্জাতিক দেখায় ফ্রান্স জিতেছে তিনটিতে, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। প্যারাগুয়ে এখনও ফ্রান্সকে হারাতে পারেনি। ফলে এবার তাদের সামনে শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগই নয়, ইতিহাস বদলে দেওয়ারও সুযোগ।

ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম সেই ১৯৯৮ সালের ম্যাচে দলের অধিনায়ক ছিলেন। এবার কোচ হিসেবে আবারও প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে বেঞ্চে ফিরেছেন দেশম। সুইডেনের বিপক্ষে জয় দিয়ে তিনি বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে সর্বাধিক ১৮ জয়ের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন। তবে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে নারাজ তিনি। দেশমের ভাষায়, জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ের জয় কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। তারা খুবই সংগঠিত ও ধৈর্যশীল দল। আমাদের সর্বোচ্চ মনোযোগ নিয়েই খেলতে হবে।


অন্যদিকে প্যারাগুয়ে শিবিরে অনুপ্রেরণার বড় উৎস ১৯৯৮ সালের সেই হার। কোচ গুস্তাভো আলফারো দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটির মানসিকতা বদলে দিয়েছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১২ ম্যাচে মাত্র একবার হেরেছে প্যারাগুয়ে। সব মিলিয়ে শেষ ২৩ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাদের হার মাত্র পাঁচটি; জয় ১০টি, ড্র আটটি। রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা, দলীয় ঐক্য এবং লড়াই করার মানসিকতাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

হাঁটুর চোটের কারণে এই ম্যাচেও তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে হোসে কানালে আবারও গুস্তাভো গোমেজের সঙ্গে রক্ষণে জুটি বাঁধতে পারেন। অন্যদিকে ফ্রান্স শিবিরে নতুন কোনো ইনজুরি নেই। তবে মার্কাস থুরাম এখনও কাফের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা কম।

শক্তিমত্তার বিচারে আক্রমণ, মিডফিল্ডের গভীরতা, বেঞ্চের শক্তি এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতায় স্পষ্টভাবেই এগিয়ে ফ্রান্স। বিপরীতে প্যারাগুয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র তাদের সুশৃঙ্খল রক্ষণ, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং হার না মানা মানসিকতা। জার্মানির বিপক্ষে তারা দেখিয়েছে, বলের দখলে পিছিয়ে থেকেও কীভাবে ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে আনা যায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে ফিলাডেলফিয়ার আবহাওয়া। ম্যাচের সময় তাপমাত্রা প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই তীব্র গরম ম্যাচের গতি কমিয়ে দিতে পারে, যা রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা প্যারাগুয়ের জন্য কিছুটা সুবিধা এনে দিতে পারে।

প্যারাগুয়ে যদি নিজেদের পরিচিত রক্ষণাত্মক ছন্দ ধরে রেখে ম্যাচটিকে দীর্ঘায়িত করতে পারে, তা হলে ফরাসিদের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তবুও এমবাপে, দেম্বেলে ও অলিজেদের বিস্ফোরক আক্রমণভাগের সামনে শেষ পর্যন্ত প্যারাগুয়ের প্রতিরোধ টিকিয়ে রাখা কঠিন বলেই মনে হচ্ছে। তবে ফুটবল ইতিহাস বলে, বিশ্বকাপের নকআউটে অসম্ভব বলে কিছু নেই। তাই ১৯৯৮ সালের সেই গোল্ডেন গোলের ক্ষত বুকে নিয়ে এবার নতুন ইতিহাস লেখার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে প্যারাগুয়ে, আর সেই স্বপ্ন ভেঙে নিজেদের শিরোপার পথে আরেক ধাপ এগোতে চাইবে ফ্রান্স।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   ফ্রান্স  প্যারাগুয়ে 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: