বয়স কেবল একটি সংখ্যা, আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রে কথাটি যেন আরও একবার সত্যি প্রমাণিত হলো। ৪১ বছর বয়সেও তিনি শুধু পর্তুগালের জার্সিতে নেতৃত্বই দিচ্ছেন না, প্রতিনিয়ত নতুন ইতিহাসও লিখে চলেছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে মাঠে নেমে যেমন গড়লেন নতুন রেকর্ড, তেমনি গোল করে নিজের নাম তুললেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের আরেকটি অনন্য কীর্তির পাতায়।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়ার মধ্য দিয়েই ইতিহাস গড়েন রোনালদো। ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মাঠে নামা সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার এখন তিনিই। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি পর্তুগিজ মহাতারকা। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করা সবচেয়ে বেশি বয়সি ফুটবলারের রেকর্ডও নিজের করে নেন। একই সঙ্গে এটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রোনালদোর ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। দীর্ঘ দুই দশকের বিশ্বকাপ যাত্রায় যে অপূর্ণতা ছিল, সেটিও অবশেষে ঘুচল।
এই ম্যাচটি ছিল রোনালদোর ক্যারিয়ারের ২৬তম বিশ্বকাপ ম্যাচ। ফলে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলারের তালিকায় তিনি উঠে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউসের এক ম্যাচ দূরত্বে। ম্যাথাউস খেলেছিলেন ২৭টি বিশ্বকাপ ম্যাচ, আর শীর্ষে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, যার নামের পাশে রয়েছে ২৯টি ম্যাচ।
রোনালদোর গোলটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, ম্যাচের গতিপথও বদলে দেয়। পিছিয়ে থাকা পর্তুগাল তার পেনাল্টি গোলে সমতায় ফেরে। এরপর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোস জয়সূচক গোল করলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করে পর্তুগাল।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রোনালদোর সাফল্য অবশ্য খুব বেশি সমৃদ্ধ ছিল না। ২০০৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালকে চতুর্থ স্থানে তুললেও এরপর নকআউটে মাত্র একটি জয়ই ছিল তার ঝুলিতে। সেই পরিসংখ্যানও এবার আরও সমৃদ্ধ হলো।
এই ম্যাচে আরেকটি বিরল ইতিহাসও তৈরি হয়েছে। ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদরিচও ছিলেন শুরুর একাদশে। ৪০ বছর ২৯৬ দিন বয়সে মাঠে নামা এই মিডফিল্ডার এবং ৪১ বছর বয়সি রোনালদোকে একসঙ্গে খেলতে দেখে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুই দলের দুজন ৪০ বছরের বেশি বয়সি আউটফিল্ড খেলোয়াড় একই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার রেকর্ড গড়ে।
আধুনিক ফুটবলে যেখানে ত্রিশের পরই অধিকাংশ খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার শেষের দিকে এগোয়, সেখানে রোনালদো এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন। বয়স, সমালোচনা কিংবা শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনো কিছুই যেন তার ক্ষুধা কমাতে পারেনি। বরং প্রতিটি ম্যাচে তিনি প্রমাণ করে চলেছেন, ইতিহাস গড়া এখনও তার অভ্যাস।
২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে অভিষেক হয় ২১ বছর বয়সি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। সেই আসরে ছয় ম্যাচ খেলে একটি গোল করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি ইতিহাস গড়ে টানা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন।
সময়ের আলো/আরবিএন