যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পেল মিশর। এই ঐতিহাসিক জয়টি মিশরের কোচ হোসাম হাসান উৎসর্গ করেছেন ফিলিস্তিনের জনগণের উদ্দেশ্যে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ ড্র থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় মিশর। জয়ের পর কোচ হোসাম হাসান মাঠে মিশরীয় পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উল্লাস করেন।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হোসাম হাসান বলেন, আমি এই জয়টি মিশরীয় জনগণ এবং ফিলিস্তিনের সেই দয়ালু ও সম্মানিত মানুষদের উৎসর্গ করছি। সৃষ্টিকর্তা যেন ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করেন এবং শহীদদের আত্মার শান্তি দেন।
মিশরের এই জয়ে গাজার মানুষের মধ্যেও আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। ধ্বংসস্তূপ আর অস্থায়ী তাঁবুর নিচেই বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করছিলেন হাজারো ফিলিস্তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বিধ্বস্ত ভবনের সামনে বসে শিশুরা মুখে মিশরের পতাকা এঁকে উল্লাস করছে। গাজার বাসিন্দা তামের নাহেদ এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, চারপাশে এত ভয়াবহতার মধ্যেও সবাই যেন কিছুক্ষণ বাঁচার আনন্দ খুঁজে নিয়েছে।
ম্যাচের ১৩তম মিনিটে ইমাম আশুরের হেডে এগিয়ে গিয়েছিল মিশর। ৫৫তম মিনিটে মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে অস্ট্রেলিয়া সমতায় ফেরে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হোসাম আবদেল মাগিদের জয়সূচক গোলটি মিশরকে নিয়ে যায় শেষ ষোলোতে, যেখানে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হতে পারে আর্জেন্টিনা কিংবা কেপ ভার্দে।
উল্লেখ্য, ম্যাচ শুরুর আগে দলের টিম হোটেলে এক ভক্তের সঙ্গে ছবি তোলার সময় ডালাস পুলিশের সঙ্গে মিশরীয় দলের কর্মকর্তাদের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত তর্ক-বিতর্কের ঘটনা ঘটেছিল, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। তবে ডালাস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি দ্রুতই সমাধান করা হয়েছে।
সময়ের আলো/কহু