বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পরও ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। বিশেষ করে জাপানের বিপক্ষে শেষ-৩২-এর ম্যাচে দল নির্বাচন, ক্যাসেমিরোকে বদলি করে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে নামানো এবং নেইমারকে শুরুর একাদশের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এসব সমালোচনায় বিচলিত নন অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ। বরং তার মতে, একজন কোচের প্রতিটি সিদ্ধান্তের বিচার হয় কেবল ম্যাচের ফলাফল দিয়েই।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ফোলহা দে এস পাওলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিল জয় না পেলে আজ তার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই প্রশ্নবিদ্ধ হতো। ক্যাসেমিরোকে তুলে মার্তিনেল্লিকে মাঠে নামানোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ফল ভিন্ন হলে দায়ভারও তাকে নিতে হতো। তাই আবেগ নয়, পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয় একজন কোচকে।
সমালোচনা প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে আনচেলত্তি বলেন, তিনি যেমন নিজেকে কোনো ‘জিনিয়াস’ মনে করেন না, তেমনি নিজেকে ‘স্টুপিড’ও ভাবেন না। দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি জানেন, ফুটবলে একটি সিদ্ধান্ত কখনো প্রশংসা, আবার কখনো সমালোচনা ডেকে আনে। তাই বাইরের প্রতিক্রিয়ার চেয়ে দলের প্রয়োজনকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর প্রতিপক্ষ নরওয়েকে নিয়েও যথেষ্ট সতর্ক ব্রাজিল কোচ।
তার মতে, নকআউট পর্বে এসে কোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কৌশল ও টেকনিকের পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও এমন ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। তিনি বলেন, ‘নরওয়ের দলে আর্লিং হালান্ডের মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার রয়েছেন, যা তাদের আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। তবু ব্রাজিল নিজেদের সামর্থ্যরে ওপর আস্থা রাখছে এবং ভালো ফুটবল খেলেই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।’
জাপানের বিপক্ষে নেইমারকে শুরু থেকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আনচেলত্তি। তিনি জানান, ইনজুরি থেকে ফেরার পর নেইমার এখন খেলার জন্য প্রস্তুত। তবে তাকে কখন এবং কতক্ষণ ব্যবহার করা হবে, সেটি ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তার ভাষায়, যখন মনে হবে দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই নেইমারকে মাঠে নামানো হবে।
কাফ ইনজুরি কাটিয়ে ওঠার পর নেইমার পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারবেন কি না। এমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি স্পষ্ট করে বলেন, সে সেই সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবে বেঞ্চে থাকতে হওয়ায় ব্রাজিলিয়ান তারকা যে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন, সেটিও স্বীকার করেছেন তিনি। আনচেলত্তির মতে, কোনো ফুটবলারই বদলি বেঞ্চে বসে খুশি থাকতে পারে না। কিন্তু নেইমার পরিস্থিতি অত্যন্ত পেশাদারভাবে সামলাচ্ছেন। অনুশীলনে তিনি শতভাগ মনোযোগ দিচ্ছেন, সতীর্থদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখছেন এবং দলের পরিবেশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
সময়ের আলো/আরবিএন