বিধানসভা ভাঙলেন গভর্নর, মমতার হাতে বিকল্প কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর রাজ্যের গভর্নর আর.এন. রবি আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। বিধানসভার

2026-05-08T14:57:01+00:00
2026-05-08T14:57:41+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বিধানসভা ভাঙলেন গভর্নর, মমতার হাতে বিকল্প কী?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ২:৫৭ পিএম  আপডেট: ০৮.০৫.২০২৬ ২:৫৭ পিএম
মমতা ব্যানার্জী। ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর রাজ্যের গভর্নর আর.এন. রবি আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। বিধানসভার মেয়াদ বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১২টায় শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় রাজভবন থেকে একটি চিঠি প্রকাশ করা হয়।

এক লাইনের ওই আদেশে বলা হয়, ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৭৪(২)(খ)-এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ৭ মে ২০২৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হলো।

এদিকে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে এখনও সরব রয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সেন্টার ফর লিগ্যাল পলিসির সাংবিধানিক আইন কেন্দ্র ‘চর্খা’র প্রধান স্বপ্নিল ত্রিপাঠী বলেন, এ ক্ষেত্রে সংবিধানের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার।

তিনি বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৭৪(২)(খ) অনুযায়ী বিধানসভা ভেঙে গেলে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সাংবিধানিক ভিত্তিও আর থাকে না।

তার ভাষায়, এ অবস্থায় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সর্বোচ্চ তত্ত্বাবধায়ক বা কেয়ারটেকার হিসেবে থাকতে পারেন। সাধারণত গভর্নরের অনুরোধে তিনি দায়িত্বে থাকেন, যতক্ষণ না নতুন সরকার শপথ নেয়। তবে এটি সাংবিধানিক রীতি হলেও বাধ্যতামূলক কোনো নিয়ম নয়। এই অন্তর্বর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে গভর্নরের কিছু বিবেচনার সুযোগ থাকে।

স্বপ্নিল ত্রিপাঠী আরও বলেন, মমতা ব্যানার্জী পদত্যাগ না করলেও তাতে সাংবিধানিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না।

তিনি বলেন, পরবর্তী ধাপে নতুন বিধানসভা গঠন করা হবে এবং নবনির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন পাবেন, তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার দাবিতে মমতা ব্যানার্জীর সামনে খুব বেশি সাংবিধানিক সুযোগ নেই।

ত্রিপাঠী বলেন, বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার পর নিয়মিত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার সাংবিধানিক ভিত্তি আর থাকে না। কারণ মুখ্যমন্ত্রীর গণতান্ত্রিক বৈধতা আসে নির্বাচিত বিধায়কদের আস্থা থেকে। বিধানসভা না থাকলে সেই ভিত্তিও আর থাকে না। ফলে কেয়ারটেকার ব্যবস্থার বাইরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার সরাসরি কোনো সাংবিধানিক পথ নেই।

এদিকে নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ থাকলে তার জন্য আইনে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বপ্নিল ত্রিপাঠী বলেন, এ ধরনের অভিযোগ ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫১’-এর আওতায় নির্বাচন সংক্রান্ত মামলার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

তিনি বলেন, এ ধরনের আবেদন সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে করতে হয়। সেখানে নির্দিষ্ট আসনের নির্বাচনে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়।

আরবিএন 


  বিষয়:   মমতা ব্যানার্জী  গভর্নর আর.এন. রবি  বিধানসভা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: