মার্কিন অবরোধ আরও কয়েক মাস সহ্য করতে পারবে ইরান : সিআইএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এক গোপন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার আগে ইরান অন্তত আরও তিন থেকে

2026-05-08T15:57:36+00:00
2026-05-08T15:57:36+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মার্কিন অবরোধ আরও কয়েক মাস সহ্য করতে পারবে ইরান : সিআইএ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৩:৫৭ পিএম 
হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন জাহাজ ও নৌকা। ছবি : রয়টার্স
মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এক গোপন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার আগে ইরান অন্তত আরও তিন থেকে চার মাস মার্কিন নৌ-অবরোধ সহ্য করতে পারবে। এই সপ্তাহে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কাছে জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট চারজন ব্যক্তি।

সিআইএ’র বিশ্লেষণ সামনে আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ নিয়ে দেওয়া আশাবাদী বক্তব্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা বোমা হামলার পরও ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে এখনো যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। এছাড়া ইরান তাদের প্রায় সব ভূগর্ভস্থ স্টোরেজ কেন্দ্র আবার চালু করতে পেরেছে এবং নতুন কিছু ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অথচ গত বুধবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। তার ভাষায়, তাদের কাছে এখন হয়তো ১৮ বা ১৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আছে। 

ট্রাম্প, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা এই যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে বাস্তবে এখনো ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবিগুলো মানেনি। এর মধ্যে রয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করা এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। 

ট্রাম্প এই নৌ-অবরোধকে ‘ইস্পাতের দেয়াল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, খুব দ্রুতই ইরানের প্রধান তেল টার্মিনালগুলো পূর্ণ হয়ে যাবে এবং এতে দেশটির তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি অংশ ভিন্ন মত দিচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ইরানি নেতৃত্ব এখন আরও বেশি কঠোর ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। তাদের বিশ্বাস, তারা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক চাপের চেয়েও দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারবে।

যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বড় সাফল্যের দাবি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। তাদের এক তদন্তে দেখা গেছে, ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর অন্তত ২২৮টি অবকাঠামো বা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রকাশ্যে যে হিসাব দিয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, নৌ-অবরোধের কারণে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার রাজস্ব হারাচ্ছে। তিনি বলেন, অপারেশন এপিক ফিউরির মাধ্যমে ইরানকে সামরিকভাবে দুর্বল করা হয়েছে। এখন অপারেশন ইকোনমিক ফিউরির মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

তবে সিআইএ’র মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান আরও ৯০ থেকে ১২০ দিন বা তারও বেশি সময় এই অবরোধ সহ্য করতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান বর্তমানে অবিক্রিত তেল খালি ট্যাঙ্কারে জমা করছে এবং তেলের কূপ সচল রাখতে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

এছাড়া মধ্য এশিয়ার রেলপথ ব্যবহার করে তেল পাচারের মাধ্যমে একটি ‘অর্থনৈতিক সুরক্ষা বলয়’ তৈরির চেষ্টাও করছে ইরান।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে কম খরচের ড্রোন বেশি কার্যকর।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এসব ড্রোন ছোট গুদামেও তৈরি করা যায় এবং সহজে লুকিয়ে রাখা সম্ভব।

তেল আবিবভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ’ এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিজ বলেন, যেকোনো একটি ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলাই জাহাজগুলোর বীমা সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, অবরোধ দীর্ঘ সময় চললেও তা ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে নাও পারে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ইরানের শাসনব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে, শেষ পর্যন্ত সেটি কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে।

তার মতে, এই যুদ্ধের ফলে ইরান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে এবং তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমও চালিয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণ নৌ-অবরোধ আরোপ করে। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ একটি সম্ভাব্য শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে।

আরবিএন 


  বিষয়:   হরমুজ প্রণালি  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  ইরান 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: