গাজা উপত্যকায় শান্তি রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মার্কিন মদদপুষ্ট ‘বোর্ড অব পিস’-কে এই অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’।
গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এক দাতা সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ১০ বিলিয়ন ডলার এবং বোর্ডের নয় সদস্য দেশ ৭ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আমিরাতের এই অনুদান সেই তহবিলে এখন পর্যন্ত কোনো একক দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া বৃহত্তম অনুদান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি আমিরাতি নিরাপত্তা সংস্থার তত্ত্বাবধানে প্রায় ২৭ হাজার ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে মিশর ও জর্ডানে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, গাজায় আগে সিভিল সার্ভেন্টে কর্মরত ছিলেন এমন ফিলিস্তিনিরা এই পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের আবেদন করতে পারবেন। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে ইসরায়েলি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা কর্তৃক ‘ভেটিং’ বা কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
গত ১০ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা থামেনি। বুধবার ফিলিস্তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮৩৭ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যা গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞে মোট নিহতের সংখ্যাকে ৭২,৬১৯-এ নিয়ে ঠেকিয়েছে।
গাজার প্রশাসনিক কমিটির প্রধান আলী শাথ জানিয়েছেন, গাজার অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গুর থাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুলিশ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজায় একটি ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ আইএসএফ মোতায়েন করা হবে। এই বাহিনী নতুন গঠিত ফিলিস্তিনি পুলিশ ইউনিটের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। ‘বোর্ড অব পিস’-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনোভ জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একটি সংস্কারকৃত ‘ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ’ গঠন করা, যারা গাজা ও পশ্চিম তীর শাসনে সক্ষম হবে।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়ার মতো দেশগুলো এই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে গাজার ইসরায়েলি দখলকৃত অংশে আমিরাতের পক্ষ থেকে একটি বিশাল কম্পাউন্ড নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ফিলিস্তিনি একে গাজার ‘কার্যত বিভাজন’ হিসেবে দেখছেন।
/কহু