মিথ্যা বলা বা সম্পর্কে প্রতারণা অনেক সম্পর্কের ইতি টানতে পারে। তবে এবার প্রেমিকের চ্যাটজিপিটি হিস্ট্রি দেখে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জনসংযোগ পেশাজীবী লিন্ডসে হল সম্প্রতি তার সাবস্ট্যাক ব্লগে ‘আই স্টাম্বলড আপন মাই বয়ফ্রেন্ডস চ্যাটজিপিটি অ্যান্ড ইট এন্ডেড আওয়ার রিলেশনশিপ’ শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, দুর্ঘটনাবশত প্রেমিকের চ্যাটজিপিটি হিস্ট্রি দেখে ফেলার পরই তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে যায়।
লিন্ডসে জানান, একদিন তার ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি প্রেমিকের ল্যাপটপ ব্যবহার করেন একটি ক্লায়েন্টকে ই-মেইল পাঠানোর জন্য। সে সময় তার প্রেমিক পাশের সোফায় ঘুমাচ্ছিলেন। ল্যাপটপ খুলতেই সামনে আসে চ্যাটজিপিটির একটি চ্যাট হিস্ট্রি, যার শিরোনাম ছিল ‘রিলেশনশিপ ইস্যুস অ্যান্ড আনসার্টেইনটি’।
তিনি লেখেন, ওই লেখা দেখে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। তিনি বলেন, মুহূর্তেই মনে হয়েছিল, যদি আমি এগুলো না পড়তাম। লিন্ডসে আরও বলেন, অনেকেই হয়তো বলবেন তিনি প্রেমিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ করেছেন। তবে তার দাবি, এমন কিছু সামনে এলে অনেকেই নিজেকে সামলাতে পারতেন না।
প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো তার পোষা তিনটি বিড়াল নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। কারণ তার প্রেমিক বিড়াল খুব একটা পছন্দ করতেন না। কিন্তু পরে চ্যাটজিপিটির একটি বিশ্লেষণ পড়ে তিনি আরও অবাক হন। সেখানে লেখা ছিল, তুমি যা যা শেয়ার করেছ, তাতে এ সম্পর্কটি শেষ করার কথা ভাবা উচিত তোমার।
চ্যাটজিপিটিতে তার প্রেমিক প্রশ্ন করেছিলেন, সাড়ে তিন মাস পর কি আমার প্রেমে থাকা উচিত? এরপর তিনি লিন্ডসের জীবনযাপন, সংবেদনশীল স্বভাব এবং পুরোনো অসুস্থতা নিয়ে বিভিন্ন সন্দেহ প্রকাশ করেন।
তবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান একটি মন্তব্য পড়ে। সেখানে তার প্রেমিক লিখেছিলেন, তাছাড়া আকর্ষণের বিষয়টাও একটা ব্যাপার।
লিন্ডসে বলেন, তিনি নিজেকে খুব সুন্দরী মনে না করলেও প্রেমিকের ভালোবাসার ভাষা ছিল শারীরিক স্পর্শ। অথচ চ্যাটজিপিটির কাছে তিনি অন্যভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। আরও একটি বাক্য তাকে গভীরভাবে আঘাত করে। প্রেমিক লিখেছিলেন, আমি ওকে নিয়ে আসলে গর্বিত নই।
লিন্ডসের এই পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এখন পর্যন্ত এতে ২২ হাজারের বেশি লাইক এবং দুই হাজারের বেশি মন্তব্য পড়েছে।
তিনি জানান, ওই কথাগুলো দেখার পর তিনি আর সেখানে থাকেননি। প্রেমিক তখনো সোফায় ঘুমাচ্ছিলেন। তিনি চুপচাপ নিজের ব্যাগ গুছিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে প্রেমিক বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি সরাসরি বলেন, আমি তোমার চ্যাটজিপিটির সব কথা পড়ে ফেলেছি।
এ ঘটনায় তার প্রেমিক লজ্জিত ও বিমর্ষ হয়ে পড়েন। তিনি দাবি করেন, সম্পর্ক নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই তিনি এআইয়ের সাহায্য নিয়েছিলেন এবং এখনো লিন্ডসেকে ভালোবাসেন।
তারা আরও কয়েক মাস সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেঙে যায়।
তবে লিন্ডসে জানান, তিনি তার প্রাক্তন প্রেমিককে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি না সে কোনো ভিলেন ছিল। আমাদের সবার মনেই এমন কিছু ব্যক্তিগত চিন্তা থাকে, যা আমরা কাউকে বলতে চাই না। সমস্যাটা ছিল, আমি তার সেই কাঁচা ও রুক্ষ চিন্তাগুলো সরাসরি দেখে ফেলেছিলাম, যেখানে কোনো ভালোবাসার প্রলেপ ছিল না।
আরবিএন