ইরান থেকে নিক্ষেপ করা দুটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং তিনটি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (৮ মে) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলার ঘটনায় অন্তত তিনজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই নতুন হামলা দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে উল্লেখ করেছে, ইরানের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের উসকানিমূলক আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যানে দাবি করা হয়েছে, আমিরাতের ওপর হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ৫৫১টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২৬৩টি চালকবিহীন আকাশযান বা ইউএভি (ড্রোন) আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির আকাশসীমা সুরক্ষায় আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ইরানের এই পদক্ষেপকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। বিবৃতিতে এই হামলাগুলোকে ‘নির্লজ্জ’ হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার লক্ষ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে।
আহতদের বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে এবং অনেক দেশ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।
দেশটির সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি প্রতিরোধে আমিরাত দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা কৌশল গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
হামলার পর থেকে আরব আমিরাত জুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
সময়ের আলো/টিএইচ