মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুয়ালালামপুরে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের ডিটেনশন অ্যান্ড ডিপো ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে আটক প্রবাসীদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তাদের আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এই সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মিনিস্টার ও ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মাত শাহানারা মনিকা। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইমিগ্রেশন বিভাগের ডিটেনশন অ্যান্ড ডিপো ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের পরিচালক রোসমালিজা বিনতি মোহাম্মদ রশিদ।
বৈঠকে ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সার্বিক কল্যাণ ও নিরাপত্তার বিষয়ে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এছাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোর সঙ্গে হাইকমিশনের তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
হাইকমিশনের প্রতিনিধিদল মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের আইনি জটিলতা নিরসন করে যেন স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ এই প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, আটক বাংলাদেশিদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং তাদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হাইকমিশনকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। দুই দেশের পক্ষ থেকেই ভবিষ্যতে এই ধরনের নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) ও হেড অব চ্যান্সারি প্রণব কুমার ভট্টাচার্য, মিনিস্টার (শ্রম) মো. সিদ্দিকুর রহমান, কাউন্সেলর (কনস্যুলার) মো. ফিরোজ রাব্বানী এবং কাউন্সেলর (শ্রম) সৈয়দ শরিফুল ইসলাম।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের সুরক্ষা ও তাদের বৈধকরণের বিভিন্ন দিক নিয়েও বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠকের ফলে ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহজ হবে।
সময়ের আলো/টিএইচ