ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকার প্রভাবে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (৮ মে) জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, উদ্ভিজ্জ তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় টানা তিন মাস ধরে বিশ্বে খাদ্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে।
এফএও-র প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো জানান, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় জৈব জ্বালানি বা বায়োফুয়েলের চাহিদা বেড়েছে, যার ফলে সয়াবিন ও পাম অয়েলের মতো উদ্ভিজ্জ তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকায় কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা এখনো স্থিতিশীল রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দামের ওঠানামা পরিমাপকারী ‘এফএও ফুড প্রাইস ইনডেক্স’ বা মূল্য সূচক এপ্রিলে গড়ে ১৩০ দশমিক ৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এটি গত মার্চ মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি এবং ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
উল্লেখ্য, এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালের মার্চে এই সূচক সর্বোচ্চ ১৬০ দশমিক ২ পয়েন্টে উঠেছিল। এপ্রিল মাসে বিশেষ করে ভোজ্যতেলের মূল্য সূচক ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২২ সালের জুলাই মাসের পর থেকে সর্বোচ্চ রেকর্ড। মূলত সূর্যমুখী, রেপসিড এবং সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে এই সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
ভোজ্যতেলের তুলনায় গম ও ভুট্টার মতো শস্যের দাম মার্চ মাসের তুলনায় মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খুব সামান্য। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং সারের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে শস্যের বাজার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অন্যদিকে, মাংসের দাম এপ্রিলে ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যার প্রধান কারণ ব্রাজিলে জবাইযোগ্য গবাদি পশুর তীব্র সংকট। তবে চিনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে; ব্রাজিল, চীন ও থাইল্যান্ডে পর্যাপ্ত সরবরাহের পূর্বাভাসের পর বিশ্ববাজারে চিনির দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
জাতিসংঘের এই সংস্থাটি আলাদা এক প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৩০৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। এটি একটি রেকর্ড উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হলেও সংস্থাটি সতর্ক করেছে, সারের উচ্চমূল্যের কারণে ২০২৬ সালে গমের চাষ কমে যেতে পারে।
বিশ্বব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানির দামের ওপর কড়া নজর রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে এফএও। চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিবহন রুট বন্ধ থাকার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা
সময়ের আলো/টিএইচ