পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও পরিবর্তনের হাওয়া বইছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতার সুবিধার সময় যারা ঘাসফুল শিবিরে আশ্রয় নিয়ে অবস্থান করেছিলেন, প্রতিকূল সময়ে তাদেরই একাংশ দল থেকে সরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন এমন অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের প্রভাব ও দাপটের সময় একদল নেতা ব্যক্তিস্বার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ভিড়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদলের অবস্থান দুর্বল হওয়ায়, সেই ‘সুবিধাবাদী’ অংশ এখন নিরাপদ রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে রয়েছে। এই শ্রেণিকেই গ্রামবাংলার রাজনৈতিক ভাষায় ‘দুধের মাছি’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে দলীয় অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকা সংগীতশিল্পী কবীর সুমন এক বিতর্কিত মন্তব্যে জানান, তিনি তৃণমূলের সদস্য নন এবং নিজেকে তৃণমূলপন্থীও মনে করেন না। তিনি বলেন, তিনি আগে কোনো দলের সদস্য ছিলেন না এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে ‘প্রায় হাতে-পায়ে ধরে’ রাজনীতিতে এনেছিলেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে তিনি পদত্যাগ করেন বলেও জানান।
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে তিনি আবারও তৃণমূলকে ভোট দেবেন। তবে কোনো শক্তিশালী কমিউনিস্ট দল সামনে এলে, এই বয়সেও তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজ চক্রবর্তীও নির্বাচনের পর রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ব্যারাকপুর আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর কাছে ১৫ হাজার ৮২২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। নির্বাচনে পরাজয়ের পরই তার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘দুধের মাছি’দের এই ধরনের অবস্থান পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। ক্ষমতার উত্থান-পতনের সময় একাংশ নেতার দ্রুত অবস্থান বদলানোর প্রবণতা আগেও দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি একদিকে যেমন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন, অন্যদিকে তেমনি দলীয় কাঠামোর ভেতরের অনিশ্চয়তাকেও সামনে নিয়ে আসে।
বর্তমানে প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের পাশে শেষ পর্যন্ত কারা থাকবেন, আর কারা রাজনৈতিক বাস্তবতার টানে অবস্থান বদলাবেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, দলীয় ঐক্য টিকে থাকবে, নাকি আরও ভাঙনের সাক্ষী হবে ঘাসফুল শিবির!
আরবিএন