ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে তেহরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট। তিনি বলেন, দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এই বিষয়ে একমত ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পেশাদার ও নির্ভুল মূল্যায়ন থাকা সত্ত্বেও একটি বিদেশি সরকারের এজেন্ডা ও প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হয়েছে।
কেন্টের মতে, সিআইএসহ মার্কিন গোয়েন্দা গোষ্ঠীগুলো যুদ্ধের আগে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না এবং আক্রান্ত হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও হরমুজ প্রণালি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে।
জো কেন্ট তার বক্তব্যে ইসরায়েলের নাম সরাসরি উল্লেখ করে বলেন, বিদেশি এই সরকারের সাজানো বয়ান ও পরিকল্পনা তর্কে জয়ী হওয়ার ফলেই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরও জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগেই সতর্ক করেছিল যে ইরানি নেতৃত্বের ওপর হামলা চালানো হলে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং কট্টরপন্থীরা উৎসাহিত হবে।
কেন্ট এই পরিস্থিতিকে যুদ্ধের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা আমাদের গভীরভাবে বোঝা দরকার যাতে ভবিষ্যতে আবারও এমন কোনো ভুল পথে পা দিতে না হয়।
এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জো কেন্টের এই দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, কেন্টের পদত্যাগপত্র এবং সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো বিভ্রান্তিকর এবং সেখানে সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা ইরানকে কোনো হুমকি নয় বলে যে দাবি করা হয়েছে তা অত্যন্ত আপত্তিকর।
মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা মূলত আমেরিকানদের জানমাল রক্ষায় এবং ইরানের আসন্ন হামলা প্রতিহত করার জন্য একটি সাহসী পদক্ষেপ ছিল।
উল্লেখ্য, জো কেন্ট গত মার্চ মাসে ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছিলেন, বিবেকবান মানুষ হিসেবে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এই চলমান যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারেন না।
তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না, বরং ইসরায়েল এবং তাদের শক্তিশালী লবিং গ্রুপের চাপেই এই সংঘাতের সূচনা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত এপ্রিলে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের প্ররোচনায় যুদ্ধে নামার এই জাতীয় দাবিগুলোকে স্পষ্টভাবে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
সূত্র: ফক্স নিউজ
সময়ের আলো/টিএইচ