গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে তৈরি একটি তথ্যচিত্র ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পাওয়ার পর এর দুই নির্মাতার নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার। তিনি তথ্যচিত্রটিকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে নির্মাতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলেছেন।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জোহার বলেন, ‘নাজা’ তথ্যচিত্রের জন্য নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোরকে ইসরায়েলি নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার উদ্যোগ তিনি নেবেন।
জোহার বলেন, দুই নির্মাতার কর্মকাণ্ড ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার’ শামিল। সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁদের নাগরিকত্ব বাতিলে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান তিনি।
ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোর পরিচালিত ৮০ মিনিটের তথ্যচিত্র ‘নাজা’তে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজকদের বর্ণনা অনুযায়ী, ছবিটিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘পরিকল্পিত ব্যাপক হত্যাকাণ্ডে’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্যচিত্রটি গত ১২ সেপ্টেম্বর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পায়। এর আগে প্রদর্শনীর সময় ছবিটি প্রায় ২৫ মিনিট ধরে দর্শকদের করতালিতে প্রশংসিত হয়।
ছবিটিতে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন সদস্যের সাক্ষাৎকার রয়েছে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যে গাজায় ফিলিস্তিনিদের যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ ও লক্ষ্য করে হত্যার ক্ষেত্রে ‘ল্যাভেন্ডার’ নামে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার ব্যবহারের কথা উঠে এসেছে।
ছবিটির নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম বলেন, তাঁর তথ্যচিত্রের মাধ্যমে পশ্চিমা দেশগুলোর সরকারগুলোকে ইসরায়েলের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে উৎসাহিত করতে চান তিনি।
তবে তথ্যচিত্রটির পুরস্কার পাওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলি সংস্কৃতিমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নির্মাতারা বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলবিদ্বেষীদের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার জন্য নিজেদের দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির স্বীকৃতির পরই নির্মাতাদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ইসরায়েলে মতপ্রকাশ ও শিল্পীস্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
সময়ের আলো/কেএইচ