তেল থেকে নৌপথ, যুদ্ধের চাপকে দর-কষাকষির অস্ত্র বানাচ্ছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞায় চাপে থাকা ইরান যুদ্ধের পরিধি বাড়িয়ে নতুন করে কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালি থেকে

2026-09-14T09:14:17+00:00
2026-09-14T09:14:17+00:00
 
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
তেল থেকে নৌপথ, যুদ্ধের চাপকে দর-কষাকষির অস্ত্র বানাচ্ছে ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞায় চাপে থাকা ইরান যুদ্ধের পরিধি বাড়িয়ে নতুন করে কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিভিন্ন চাপের ক্ষেত্র তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে তেহরান ও তার মিত্ররা।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারে উঠে যায়। একই সময়ে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিরা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোও হামলার শিকার হয়েছে। পাশাপাশি উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে ইরানের সংঘাতও বেড়েছে।

এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরান ও ওমানের আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে সামরিক উত্তেজনাকে কূটনৈতিক দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পেতে পারে তেহরান।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চাপ
যুদ্ধের বেশির ভাগ সময় ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত চাপের জায়গা ছিল হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এই পথে জাহাজ চলাচল অনেক কমে গেছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা সহায়তায় সীমিতসংখ্যক জাহাজ এখনও প্রণালিটি পার হচ্ছে।

এতে হরমুজকে কেন্দ্র করে ইরানের চাপ কিছুটা কমতে শুরু করেছিল। এরপর ইয়েমেনে হুথিদের অগ্রগতি পরিস্থিতি বদলে দেয়।

ইরান-সমর্থিত হুথিরা ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দর মোখা এবং এরপর বাব আল-মান্দাব প্রণালির প্রবেশমুখে অবস্থিত পেরিম বা মায়ুন দ্বীপ দখল করেছে। এর ফলে দ্বিতীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলের ওপর চাপ তৈরির সক্ষমতা বেড়েছে তাদের।

হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবও সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগরের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। ফলে হুথিদের অগ্রগতি ইরানের কৌশলগত অবস্থানকে কিছুটা শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

তেলের দাম কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইরানের জন্য আরেকটি বড় চাপের জায়গা হচ্ছে তেলের বাজার। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারে পৌঁছায়।

তেলের দাম বাড়লে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ব্যয় বাড়ে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এটি রাজনৈতিক চাপও তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায়।

চাপে পড়েছে সৌদি আরবও। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশটি লোহিত সাগরের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কিন্তু হুথিরা সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি স্থাপনা ও চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

এরই মধ্যে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি গত মাসে অন্তত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুক্রবার ইরাক থেকে চালানো একটি ড্রোন হামলার পর লোহিত সাগরের বন্দরগুলোর দিকে সৌদি তেল পরিবহনকারী একটি পাইপলাইনের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। হামলার জন্য কে দায়ী, তা স্পষ্ট না হলেও ট্রাম্প বলেছেন, এর পেছনে ইরানের থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুদ্ধের পরিধি বাড়াচ্ছে তেহরান
হরমুজের বাইরেও চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইরান। উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর হামলা জোরদার করেছে তেহরান। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজে ইরানের প্রভাব কিছুটা কমে আসায় তেহরান এখন ইয়েমেনের ইরানপন্থী বাহিনী এবং সৌদি আরবকে ঘিরে হামলার মাধ্যমে অন্য জায়গায় চাপ বাড়িয়ে সেই প্রভাব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

তবে এই কৌশল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইরানের কোনো হামলায় বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা হতাহত হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

উত্তেজনা থেকে কূটনীতির পথে?
এখন নজর কূটনৈতিক আলোচনার দিকে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে সোমবার উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে ইরান ও ওমানের। এরই মধ্যে হরমুজ পরিচালনা নিয়ে ইরান ও ওমানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

তবে তেহরান জানিয়েছে, কোনো সমঝোতা হলেও এর অর্থ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে—এমন নয়। বাহরাইনও প্রস্তাবিত বৈঠকে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে। অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো বৈঠকে অংশ নেবে কি না, সেটিও এখনো পরিষ্কার নয়।

তবে এই আলোচনার সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কয়েক মাসের সংঘাত ও অস্থিরতার পর ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর তৈরি হওয়া চাপকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইতে পারে।

সামরিক অর্থে ইরান যুদ্ধ জিতছে— এমন নয়। দেশটির অর্থনীতি চরম চাপে রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধও অব্যাহত রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে পরাজিত না করেও ইরান দর-কষাকষির অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।

হরমুজে চাপ বজায় রাখা, বাব আল-মান্দাবে অস্থিরতা বাড়ানো, তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে রাখা এবং হরমুজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করতে পারলে যুদ্ধের উত্তেজনা তেহরানের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

সময়ের আলো/কেএইচ
  বিষয়:   সময়ের আলো  হরমুজ  ইরান 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: