ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ৫০ ঘণ্টা পাহাড়ে লুকিয়ে থেকে উদ্ধার হওয়া মার্কিন এক সেনা প্রথমবারের মতো তার রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। রোববার সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকারে তিনি বিমান বিধ্বস্ত হওয়া থেকে শুরু করে ইরানি বাহিনীর চোখ এড়িয়ে পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা এবং শেষ পর্যন্ত উদ্ধারের বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
নিরাপত্তার কারণে ওই সেনার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সাক্ষাৎকারে তাকে ‘ব্রাভো’ নামে ডাকা হয়। তিনি জানান, এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর সেটি থেকে বেরিয়ে আসার সময় তার প্যারাসুট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আকাশ থেকে পড়ে যাওয়ার সময় তিনি প্যারাসুটের ছড়িয়ে থাকা অংশগুলো টেনে ধরার চেষ্টা করেন।
‘এটি ছিল আমার দেখা সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য,’ বলেন ব্রাভো। ওই পতনের সময় তার মেরুদণ্ড, একটি হাত ও একটি কাঁধে আঘাত লাগে। পাশাপাশি তার গোড়ালিতে মচকানো এবং মাথা ও মুখে রক্তাক্ত ক্ষত হয়।
বিমান থেকে বের হওয়ার পরও বিপদ কাটেনি। সামান্য অস্ত্র, একটি যোগাযোগের যন্ত্র ও ট্র্যাকিং বীকন নিয়ে আহত অবস্থায় ইরানি বাহিনীর নজর এড়িয়ে তিনি প্রায় ৭ হাজার ফুট উঁচু একটি পাহাড়ি এলাকায় উঠে যান। সেখানে একটি পাহাড়ের খাঁজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন তিনি।
ব্রাভোর ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপদ মনে হওয়া একটি জায়গায় পৌঁছে তিনি যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রথম যে বার্তাটি পাঠান, সেটি ছিল— ‘আল্লাহ ভালো।’
এরপর তাকে উদ্ধারে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। শত শত মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সদস্য এতে অংশ নেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স ও নেভি সিল টিম সিক্সের মতো বিশেষ বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন। ব্রাভোকে খুঁজে বের করতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ওই এলাকায় হামলা চালিয়ে পথ পরিষ্কার করে।
বিমানটির পাইলটকে দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার করা গেলেও ব্রাভোকে উদ্ধার করতে সময় লাগে ৫০ ঘণ্টা। পরে মার্কিন বিমানবাহিনীর বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাহাড়ে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে।
উদ্ধার অভিযানের আগে ইরানকে বিভ্রান্ত করতে সিআইএ একটি গোপন কৌশলও নিয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। ব্রাভোকে ধরতে ইরানি কর্তৃপক্ষ পুরস্কার ঘোষণা করেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অভিযানের সময় আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়। কমান্ডো ও উদ্ধার হওয়া সেনাকে ইরান থেকে বের করে আনতে অপেক্ষমাণ দুটি এমসি-১৩০জে সামরিক পরিবহন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ৯০ জনের বেশি বিশেষ বাহিনীর সদস্য কিছু সময়ের জন্য আটকা পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করা হলেও ইরানের হাতে বিমান দুটি যাতে না পড়ে, সে জন্য সেগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এরপর নতুন বিমান পাঠিয়ে সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
উদ্ধারের মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে ব্রাভো বলেন, পাহাড়ের চূড়ায় উদ্ধারকারীদের দেখতে পাওয়া ছিল তার জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ওই ঘটনার পুরো অভিজ্ঞতা তার জীবনের সঙ্গে সবসময় থেকে যাবে।
সময়ের আলো/কেএইচ