যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর (ইউএসএএফ) অনেক পাইলট যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারছেন না। সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মিচেল ইনস্টিটিউট ফর অ্যারোস্পেস স্টাডিজের (এমআইএএস) বিশেষজ্ঞ জন ভেনেবলের বরাত দিয়ে ‘মিলিটারি টাইমস’ জানিয়েছে, বর্তমানে মার্কিন বিমানবাহিনীর একজন পাইলট গড়ে মাসে মাত্র একটি উড্ডয়ন মিশন পরিচালনা করছেন। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল মাসে গড়ে ৫ দশমিক ৫টি। তবে তখনও তা প্রয়োজনীয় মাত্রার মাত্র ৬০ শতাংশ ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বা ‘কমব্যাট রেডি’ হিসেবে বিবেচিত হতে একজন মার্কিন বিমানবাহিনীর পাইলটকে প্রতি মাসে অন্তত ৯টি উড্ডয়ন মিশন পরিচালনা করতে হয়।
ভেনেবলের দাবি, সাম্প্রতিক ‘মিডনাইট হ্যামার’ ও ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানে মার্কিন বাহিনীর কার্যক্রম অনেকটাই ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর সক্ষমতার ওপর নির্ভর করেছে। ইসরায়েলি পাইলটরা প্রতি মাসে গড়ে ২০টি উড্ডয়ন মিশন পরিচালনা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের সময় মিচেল ইনস্টিটিউটের হিসাবে, মার্কিন বিমানবাহিনীর ২৫টি স্কোয়াড্রনে প্রায় ৩২৫টি যুদ্ধবিমান ছিল। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিমানবাহিনীর সক্রিয় ১ হাজার ৮৪টি বিমানের মধ্যে ৬৩৪টি ছিল মিশন পরিচালনায় সক্ষম।
ভেনেবল বলেন, বর্তমানে যুদ্ধের জন্য নির্ধারিত ৩২৫টি যুদ্ধবিমানই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কার্যত সর্বোচ্চ সক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করছে। তার মতে, উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে পেরেছিল, বর্তমান সংখ্যা তার প্রায় অর্ধেক।
মার্কিন বিমানবাহিনীর পাইলটদের উড্ডয়ন মিশনের তথ্য ২০২৩ সালের পর আর প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভেনেবল। তিনি আরও বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীতে পাইলটের ঘাটতি নিয়ে অনানুষ্ঠানিক হিসাবে প্রায় ৪ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। তবে সরকারি হিসাবে এই ঘাটতি প্রায় ২ হাজার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলট সংকটের সঙ্গে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতার ঘাটতিও যুক্ত রয়েছে। ‘মিলিটারি টাইমস’-এর প্রতিবেদনে সাবেক মার্কিন বিমানবাহিনী সচিব ফ্র্যাঙ্ক কেন্ডালের সিদ্ধান্তকেও এর একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট থাকাকালে কেন্ডাল বিমান রক্ষণাবেক্ষণের কয়েক হাজার পদ থেকে অর্থ সরিয়ে অন্য খাতে বরাদ্দ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ফলে পর্যাপ্ত যুদ্ধবিমান থাকা সত্ত্বেও সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত পাইলট এবং নিয়মিত উড্ডয়ন অভিজ্ঞতার ঘাটতি মার্কিন বিমানবাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সময়ের আলো/কেএইচ