ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের দিকে গড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লসন। তার দাবি, যুদ্ধ শুরুর আগে তিনি এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন এবং ট্রাম্প তার মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হয়েছিলেন।
কার্লসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল দেশটির ওপর প্রভাব ফেলবে না; এতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো দুর্বল হতে পারে, ইসরায়েল আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে যেতে পারে।
‘গোয়িং আন্ডারগ্রাউন্ড’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্লসন বলেন, ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন। এর প্রায় এক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে।
কার্লসন বলেন, তিনি তখন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) কয়েকটি দেশ সফর করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছিলেন। ট্রাম্পকে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব দেশটির সীমানা ছাড়িয়ে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে পড়তে পারে।
কার্লসনের দাবি, তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন, ‘আমি ট্রাম্পকে সেটা বলেছিলাম এবং তিনি একমত হয়েছিলেন। তাই হ্যাঁ, তিনি বিষয়টি জানতেন।’
তার মতে, ইরানকে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে দুর্বল করা, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমে যাওয়া— এসব ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থের পক্ষে যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে তিনি পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর প্রতিবেশী অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের উদাহরণ টেনেছেন। রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে ইসরায়েলের কথিত কৌশলের তুলনাও করেছেন তিনি। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারের অর্থনীতি, আর্থিক খাত, বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে দ্রুত বিকাশের বিষয়টি উল্লেখ করেন কার্লসন। তার অভিযোগ, এসব দেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাবও ইসরায়েলের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
তবে কার্লসনের এসব বক্তব্যকে কোনো মার্কিন বা ইসরায়েলি নীতির প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে তিনি কোনো প্রমাণও উপস্থাপন করেননি। তাঁর বক্তব্য মূলত নিজস্ব বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে।
একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন কার্লসন। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুজনের অবস্থানে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে ইরানে সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্পের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন কার্লসন। তার যুক্তি ছিল, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ নিয়ে রিপাবলিকান দলের যুদ্ধপন্থী নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বিরোধ দেখা দেয়। এরপর ট্রাম্প কার্লসনকে ‘কুকি’ বলে মন্তব্য করেন। যদিও পরে দুজনের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল।
২০২৬ সালে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন সামরিক অভিযান শুরুর পর আবারও ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনায় সরব হন কার্লসন। তিনি যুদ্ধকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে তুলে ধরেন।
পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প বলেন, কার্লসন আর ‘মাগা’ বা ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ শিবিরের সঙ্গে নেই। কার্লসনও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পরে রিপাবলিকান পার্টি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানান।
সূত্র : গলফ নিউজ
সময়ের আলো/কেএইচ