গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউতকোনা এলাকার একটি প্রবাসীর বাড়ি থেকে এই পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রতিটি মরদেহের ওপর কম্পিউটারে টাইপ করা একই অভিযোগপত্রের কপি পাওয়া গেছে, যেখানে নিহত স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়া এবং স্বামীর উপার্জিত ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।
নিহতরা হলেন— অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তাদের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ভাই অর্থাৎ ফোরকানের শ্যালক রসুল (২২)। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। অন্যদিকে নিহত শারমিন একই উপজেলার পাইকান্দি গ্রামের মো. শাহাদাত মোল্যার মেয়ে। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা গোপালগঞ্জ থেকে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফোরকান মিয়া সপরিবারে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে প্রতিবেশীরা ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে উঁকি দিয়ে রক্তাক্ত মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখেন এবং তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দেন।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অভিযোগপত্রটি গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লেখা। সেখানে ফোরকান দাবি করেছেন, তার স্ত্রী শারমিন স্বামীর উপার্জিত অর্থ হাতিয়ে নিয়ে বাবার বাড়িতে জমি কিনেছেন এবং এক খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ওই অভিযোগপত্রে ফোরকান আরও দাবি করেন, গত ৩ মে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এবং স্ত্রীর কথিত প্রেমিক তাকে একটি ঘরে হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করেছিলেন।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রতিটি মরদেহের ওপরই এই টাইপ করা অভিযোগের কপি পাওয়া গেছে। এটি আসলেই থানায় জমা দেওয়া হয়েছিল কি না, নাকি কেবল ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে রাখা হয়েছে তা যাচাই করা হচ্ছে।
মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
সময়ের আলো/টিএইচ