মানুষ সামাজিক জীব। সমাজ ও পরিবারকে ঘিরেই মানুষের জীবন। একসঙ্গে বসবাস করতে গেলে মতপার্থক্য, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা ছোটোখাটো ঝগড়া হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীকে একই ছাদের নিচে চলতে হয় বলে নানা বিষয়ে মতের অমিল দেখা দিতেই পারে। তবে মতপার্থক্য মানেই সম্পর্কের সমাপ্তি নয়, বরং একসঙ্গে থেকে সমস্যার সমাধান খোঁজাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।
ইসলাম বৈবাহিক সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তাই বিচ্ছেদের আগে পারস্পরিক বোঝাপড়া, ধৈর্য, আলোচনা ও মীমাংসা পথ অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একান্তই যখন একসঙ্গে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন ইসলাম তালাকের অনুমতি দিয়েছে। তবে হঠাৎ রাগের মাথায় বা আবেগে তালাক দেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না।
ইসলামে তালাকের একটি উত্তম পদ্ধতি রয়েছে, যাকে বলা হয় ‘তালাকে আহসান’। এ পদ্ধতিতে তালাক দেওয়ার নিয়ম হলো,
১. পবিত্র অবস্থায় তালাক দেওয়া। স্ত্রী ঋতুস্রাব (হায়েজ) থেকে পবিত্র হওয়ার পর তালাক দিতে হবে।
২. সহবাস থেকে বিরত থাকা। যে পবিত্র সময়ে তালাক দেওয়া হবে, সেই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো শারীরিক সম্পর্ক বা সহবাস হওয়া যাবে না।
৩. স্পষ্টভাবে এক তালাক প্রদান। স্বামী সুস্পষ্ট ভাষায় কেবল এক তালাক দেবে।
যে কারণে এই পদ্ধতি উত্তম
এই পদ্ধতিতে তালাক দেওয়ার সবচেয়ে বড়ো সুবিধা হলো, ফিরে আসার সুযোগ থাকে। এক তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতকাল (তিন ঋতুস্রাব বা প্রায় তিন মাস) চলাকালে স্বামী চাইলে স্ত্রীকে পুনরায় নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে পারে। এতে নতুন করে বিয়ের প্রয়োজন হয় না।
এ সময় স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্যই অনুশোচনা ও পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, রাগ বা অভিমানে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দুজনই অনুতপ্ত হয়। এক তালাক দিলে পুনরায় সংসার শুরু করার পথ খোলা থাকে। কিন্তু একসঙ্গে তিন তালাক দিলে সেই পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
এ ছাড়া, এই পদ্ধতি মানুষকে ধীরস্থিরভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেয়। আবেগতাড়িত হয়ে হুটহাট সিদ্ধান্ত না নিয়ে, সময় নিয়ে চিন্তা করার অবকাশ দেয়। এসব কারণেই ইসলাম তালাকে আহসান পদ্ধতিকে সর্বোত্তম হিসেবে বিবেচনা করেছে।
/এসএকে