যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যেই কাতারের একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
শনিবার (৯ মে) হরমুজ প্রণালীর আশপাশে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি দেখা গেলেও কয়েকদিন ধরেই সেখানে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি আলোচনা শুরুর জন্য নতুন প্রস্তাব দিলেও তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার বলেছিলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের জবাব আসতে পারে। তবে একদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত মেলেনি।
এদিকে কাতারের একটি গ্যাসবাহী জাহাজ পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে হরমুজ প্রণালীর দিকে যাত্রা করেছে বলে শিপিং তথ্য থেকে জানা গেছে। সূত্রগুলো বলছে, কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে আস্থা তৈরির অংশ হিসেবে ইরান এই যাত্রার অনুমোদন দিয়েছে। সংঘাত শুরুর পর এটিই হবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে কাতারের প্রথম এলএনজি জাহাজ চলাচল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকেই ইরান প্রণালীটি দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত।
শুক্রবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বাহিনী ও মার্কিন জাহাজের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। পরে ইরানের সামরিক সূত্র জানায়, পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে, তবে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরান-সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো একটি ইরানি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। মার্কিন যুদ্ধবিমান জাহাজ দুটির ধোঁয়ার চিমনিতে আঘাত করলে সেগুলো ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, শুক্রবার ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র একদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও অন্যদিকে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। চীন ও হংকংভিত্তিক কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক ড্রোন কর্মসূচিতে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
/ইউএমএইচ