শিশুর প্রথম ইশকুল তার মা

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

শিশুর প্রথম পৃথিবী তার মা। ব্যক্তিত্ব গঠনের প্রথম ইশকুলও মা। গর্ভ থেকেই মায়ের সঙ্গে সন্তানের শুরু হয় এক অদৃশ্য সম্পর্ক।

2026-05-10T13:01:28+00:00
2026-05-10T20:08:52+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ফিচার
শিশুর প্রথম ইশকুল তার মা
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ১:০১ পিএম  আপডেট: ১০.০৫.২০২৬ ৮:০৮ পিএম
মারিয়া জাহান ও তার পুত্র। ছবি : সময়ের আলো
শিশুর প্রথম পৃথিবী তার মা। ব্যক্তিত্ব গঠনের প্রথম ইশকুলও মা। গর্ভ থেকেই মায়ের সঙ্গে সন্তানের শুরু হয় এক অদৃশ্য সম্পর্ক। জন্মের পর সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে শিশুর মানসিক, আবেগিক ও সামাজিক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একটি শিশুর ব্যক্তিত্ব কেমন হবে- সে আত্মবিশ্বাসী হবে কী না, সহানুভূতিশীল নাকি রাগী, দায়িত্বশীল নাকি উদাসীন হবে- এসব গঠনের পেছনে সবচেয়ে গভীর প্রভাব রাখেন মা।

প্রথম রোল মডেল
শিশু বড় হয়ে কী পেশায় যাবে বা কতটা সফল হবে- এসব সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্ধারিত হয়। কিন্তু সে কেমন মানুষ হবে, সেটির ভিত্তি তৈরি হয় অনেক আগে, মায়ের সান্নিধ্যে।

শিশুর ব্যক্তিত্ব বলতে শুধু তার আচরণ বা কথা বলার ধরন বোঝায় না। এর মধ্যে থাকে চিন্তাভাবনা, আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা, আত্মসম্মানবোধ, সামাজিক দক্ষতা এবং মূল্যবোধ। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সূচনা হয় শৈশব থেকেই। জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়ে শিশুর সঙ্গে মায়ের যোগাযোগ বা সম্পর্ক থাকে সবচেয়ে গভীর।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘জীবনের প্রথম পাঁচ বছর শিশুর মানসিক গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে শিশুর সবচেয়ে কাছের মানুষ হিসেবে মা-ই হয়ে ওঠেন তার প্রথম শিক্ষক, নিরাপদ আশ্রয় এবং প্রথম রোল মডেল।’

শিশুর সব আবদরাই পূরণ করেন মারিয়া। তবে, শিশুর জন্য ক্ষতিকর -এমন কিছু দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

শিশুর সব আবদরাই পূরণ করেন মারিয়া। তবে, শিশুর জন্য ক্ষতিকর -এমন কিছু দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।


আচরণ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া
একটি শিশু পৃথিবীকে প্রথম চিনতে শেখে মায়ের চোখ দিয়ে। মা হাসলে শিশু হাসতে শেখে, মা স্নেহ দেখালে সে ভালোবাসা বুঝতে শেখে, মা ধৈর্য ধরলে শিশুও ধৈর্যের ভাষা শেখে। অর্থাৎ, মা শুধু কথায় নয়, নিজের আচরণের মাধ্যমেও শিশুর ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলেন।

ধরা যাক, কোনো শিশু ছোটবেলায় ভুল করলে তার মা যদি তাকে ধৈর্যের সঙ্গে বোঝান, ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। সে শেখে, ভুল করা জীবনের অংশ, ভুল থেকে শেখাই গুরুত্বপূর্ণ।

বিপরীতে, প্রতিটি ভুলে যদি শিশুকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা হয় বা অতিরিক্ত শাসন করা হয়, তাহলে তার মধ্যে ভয়, সংকোচ এবং আত্মবিশ্বাসহীনতা তৈরি হতে পারে।

নিরাপত্তাবোধের মূল ভিত্তি
মায়ের ভালোবাসা শিশুর আবেগিক নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। একটি শিশু যখন জানে, যাই হোক না কেন মা তাকে গ্রহণ করবে, তখন তার মধ্যে নিরাপত্তাবোধ গড়ে ওঠে। এই নিরাপত্তাবোধই তাকে বাইরের পৃথিবীর সামনে সাহস নিয়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে। স্কুলে নতুন বন্ধু তৈরি করা, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া বা ব্যর্থতা সামলে ওঠার মতো দক্ষতার পেছনেও এই প্রাথমিক আবেগিক নিরাপত্তার বড় ভূমিকা রয়েছে।

চিন্তাশক্তির প্রসার
শিশুর ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশেও মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা যখন সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন, গল্প করেন, গান শোনান, প্রশ্ন করেন, তখন শিশুর ভাষাগত বিকাশের পাশাপাশি তার চিন্তাশক্তিও প্রসারিত হয়। একই সঙ্গে শিশু নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে শেখে।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের গবেষণায় গবেষকরা বলেন, ‘শিশুর দেহে বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টিকারী জিন মায়ের কাছ থেকেই আসে। মানবদেহের ‘এক্স’ক্রোমোজোমের মাঝেই থাকে বুদ্ধিমত্তার জিন।’

তাই শিশুর বুদ্ধিমত্তা কিংবা চিন্তাশক্তির প্রসারে মায়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

খেলাধুলা ও ঘোরাফেরায় শিশুর বিকাশ হয় তাড়াতাড়ি। সেদিকে খেয়াল রাখেন মারিয়া।

খেলাধুলা ও ঘোরাফেরায় শিশুর বিকাশ হয় তাড়াতাড়ি। সেদিকে খেয়াল রাখেন মারিয়া।


মূল্যবোধ গঠন
মূল্যবোধ গঠনের ক্ষেত্রেও মা অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। সততা, দায়িত্ববোধ, সহানুভূতি, শৃঙ্খলা, অন্যকে সম্মান করা- এসব বিষয় শিশুকে আলাদা করে শেখানোর চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হয় যখন মা নিজেই তা মেনে চলেন। যদি মা গৃহসহকারীদের সম্মান করেন, বয়োজ্যেষ্ঠদের যত্ন নেন, কথা দিয়ে তা রক্ষা করেন, তাহলে শিশু এসব আচরণ স্বাভাবিকভাবেই আত্মস্থ করে।

একজন মা যখন সন্তানের কান্নার কারণ বোঝার চেষ্টা করেন, তার ছোট অর্জনে আনন্দিত হন, ব্যর্থতায় পাশে দাঁড়ান, নানান প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নিঃশর্ত ভালোবাসা দেন, তখন ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে শিশুর সুস্থ ব্যক্তিত্ব।

আত্মনির্ভরতা তৈরি
শিশুর স্বাধীনতা বোধ তৈরিতেও মায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মা সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক হয়ে ওঠেন। সন্তানের সব কাজ নিজে করে দেওয়া, সব সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া বা সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা অনেক সময় শিশুর স্বনির্ভরতা ব্যাহত করতে পারে। বরং বয়স অনুযায়ী ছোট ছোট দায়িত্ব দেওয়া, যেমন : নিজের খেলনা গোছানো, স্কুল ব্যাগ প্রস্তুত করা, সহজ সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া- এসব শিশুকে দায়িত্বশীল ও আত্মনির্ভর করে তোলে।


ভারসাম্য বজায় রাখা
ব্যক্তিত্ব গঠনে শুধু আদরই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ শাসনও। অতি আদরে বড় হওয়া শিশু অনেক সময় দায়িত্বজ্ঞানহীন বা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠতে পারে। তাই মা যদি স্নেহের পাশাপাশি নিয়ম-কানুন, সময়ানুবর্তিতা, সততা ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব শেখান, তাহলে শিশুর ব্যক্তিত্ব আরও পরিণত হয়।

মায়ের ভালো থাকা জরুরি
শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মায়ের নিজের মানসিক অবস্থার প্রভাব পড়ে। মা যদি দীর্ঘদিন মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্নতায় ভোগেন, তা সন্তানের আবেগিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই একজন মায়ের নিজের যত্ন নেওয়াও সন্তানের ব্যক্তিত্ব গঠনের অংশ। সুস্থ ও স্থিতিশীল মানসিকতার আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন মা সন্তানের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে পারেন।

একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনের গল্প অনেকটাই শুরু হয় মায়ের কোল থেকে। তাই বলা যায়, একজন মা শুধু সন্তান জন্ম দেন না; তিনি অনেক ক্ষেত্রে একজন মানুষের চরিত্র, মনন ও মানবিকতারও নির্মাতা। মা ও সন্তানের সম্পর্কের চেয়ে পৃথিবীতে সুন্দর আর কিছু নেই।

/মহু



  বিষয়:   মা দিবস  মা  শিশু 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: