বর্তমান বৈশ্বিক উত্তেজনায় নানান অনিশ্চয়তাসহ, মূল্যস্ফীতি, উচ্চ ফিন্যান্সিং খরচ এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আসন্ন বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, আসন্ন বাজেটে কেবল রাজস্ব সংগ্রহের দিকে নজর না দিয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এবং ফিসকাল মডার্নাইজেশন বা আর্থিক আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে বিদ্যমান করপোরেট করের হার কমানোর পাশাপাশি 'ট্যাক্স নেট' বা করের আওতা আরও বিস্তৃত করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
জেবিসিসিআই তাদের বাজেট প্রস্তাবনায় জানিয়েছে, টেকসই উন্নয়নের জন্য সাধারণ করপোরেট করের হার বর্তমান ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো প্রয়োজন।
জাপান-বাংলাদেশ চেম্বারের প্রেসিডেন্ট তারেক রাফি ভূঁইয়া জুন এ প্রসঙ্গে বলেন, ভিয়েতনাম, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো আঞ্চলিক দেশগুলো অনুকূল কর নীতির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে। তাই এসব দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং শিল্প সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কর হার কমানো জরুরি। এছাড়া টেক্সটাইল খাতে ২০২৫ সালে কর হার বাড়িয়ে যে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে পুনরায় ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানানো হয়।
ভ্যাট ও অন্যান্য কর সংস্কারের বিষয়ে সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে ভ্যাটের স্ট্যান্ডার্ড রেট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ করা এবং একটি একীভূত ভ্যাট কাঠামো (ইউনিফাইড ভ্যাট স্ট্রাকচার) চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে লোকসানে থাকা কোম্পানিগুলোর ওপর গ্রস রসিদের ভিত্তিতে আরোপিত মিনিমাম ট্যাক্স প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত উৎসে কর কর্তনের রিফান্ড নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাপ্লায়ার, সাব-কন্ট্রাক্টর, রেন্টাল ও নন-রেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে উৎসে কর (TDS) কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীদের ক্যাশ ফ্লো বা নগদ অর্থের প্রবাহ ও ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সমস্যা দূর হয়।
জেবিসিসিআই আরও প্রস্তাব করে যে, পোশাক খাত, আইটি, ফার্মাসিউটিক্যালস, আবাসন, কৃষি, স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ও ইলেকট্রিক গাড়ি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোতে কর সুবিধা বা ট্যাক্স হলিডে দেওয়ার বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা উচিত। বিদ্যমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে, করের আওতার বাইরে থাকা ব্যক্তি ও খাতগুলোকে ট্যাক্স নেটে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে কর প্রশাসনের পূর্ণ ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সময়ের আলো/জেডি