আইএমএফের শর্ত ভেঙেই পুনঃঅর্থায়ন

জাহিদুল ইসলাম

জাতীয়

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ঋণ কর্মসূচির শর্ত উপেক্ষা করেই বন্ধ শিল্প-কারখানা সচলে নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের পথে এগোচ্ছে সরকার।

2026-05-11T08:50:15+00:00
2026-05-11T09:11:21+00:00
 
  বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬,
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
আইএমএফের শর্ত ভেঙেই পুনঃঅর্থায়ন
জাহিদুল ইসলাম
প্রকাশ: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৮:৫০ এএম  আপডেট: ১১.০৫.২০২৬ ৯:১১ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ঋণ কর্মসূচির শর্ত উপেক্ষা করেই বন্ধ শিল্প-কারখানা সচলে নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের পথে এগোচ্ছে সরকার। প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল থেকে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বন্ধ থাকা শিল্প-কারখানা চালু করতে কম সুদে ঋণ দেওয়া হবে। এমনকি সুদের একটি অংশ পর্যন্ত ভর্তুকিও দেবে সরকার। যদিও আইএমএফের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার শর্তানুযায়ী নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করার সুযোগ নেই, তবু দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ শিল্প-কারখানা পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে খসড়া নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো বাজারভিত্তিক সুদে ঋণ বিতরণ করবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম বছরে নির্ধারিত সুদের ৫ শতাংশ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেওয়া হবে। ফলে উদ্যোক্তাদের প্রকৃত সুদের চাপ কমে আসবে।

তবে এ উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে- এটি আইএমএফের বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফের ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হলো, নতুন কোনো পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন না করা এবং বিদ্যমান তহবিলগুলো ধীরে ধীরে সংকুচিত করা। সংস্থাটির মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি অর্থ সরবরাহ করলে বাজারে তারল্য বাড়ে এবং তা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের শিল্প খাতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা, উচ্চ সুদহার, ডলার সংকট, জ্বালানি ঘাটতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানা সচল করা না গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি কঠিন হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অর্থনীতির স্বার্থেই এ ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, মূল্যস্ফীতি যখন দুই অঙ্কের কাছাকাছি, তখন নতুন করে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু করলে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য তৈরি হয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কি না? এ কারণেই সংস্থাটি বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে বাজারভিত্তিক সুদহার ও কঠোর মুদ্রানীতির দিকে যেতে চাপ দিচ্ছে। এমনকি সরকারও আইএমএফের শর্ত মেনে গত এক বছরে বেশ কয়েকটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আকার কমিয়েছে। সবচেয়ে বড় উদাহরণ রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ)। একসময় এই তহবিলের আকার ছিল প্রায় ৭০০ কোটি ডলার। পরে ধাপে ধাপে তা কমিয়ে আনা হয়। এ ছাড়া কৃষি, প্রণোদনা ও বিভিন্ন খাতভিত্তিক পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মেয়াদও সীমিত করা হয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আইএমএফের ঋণের এখনও কয়েকটি কিস্তি বাকি রয়েছে। আগামী কিস্তি ছাড়ের আগে সংস্থাটি বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করবে। ঠিক সেই সময়েই নতুন করে বড় আকারের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের উদ্যোগ ঋণের পরবর্তী কিস্তি পাওয়া ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

এমন বাস্তবতায় নতুন ২০ হাজার কোটি টাকা তহবিল গঠনের উদ্যোগ আইএমএফের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে এমন একসময়ে রয়েছে যখন বৈদেশিক ঋণ সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনও চাপের মধ্যে রয়েছে, ব্যাংক খাতে ডলারের সংকট পুরোপুরি কাটেনি এবং সরকারের বাজেট ঘাটতিও বাড়ছে। ফলে আইএমএফের ঋণের পরবর্তী কিস্তি বিলম্বিত হলে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ প্রবাহেও প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্ধ শিল্প-কারখানা সচল না করলে কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও বিনিয়োগ আরও সংকুচিত হতে পারে। সে কারণে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা করেই বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও শেষ পর্যন্ত আইএমএফ এ বিষয়ে কতটা নমনীয় হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকের কাছ থেকে বন্ধ শিল্প-কারখানার তালিকা সংগ্রহ করেছে। খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, কেবল নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবে। কারখানার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ সচল আছে কি না, যন্ত্রপাতি ব্যবহারের উপযোগী আছে কি না এবং অতীতে ঋণের অর্থ পাচার বা তহবিল স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে কি না- এসব বিষয় যাচাই করা হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে এ তহবিলের আওতায় ঋণ দেওয়া যাবে। বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি কারখানা সচলের জন্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে ব্যাংকিং সহায়তা, এলসি খোলার সুবিধাসহ অন্যান্য আর্থিক সহযোগিতাও দেওয়া হবে।

তবে ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। বর্তমানে এস আলম, বেক্সিমকো, আরামিট, নাসা, সিকদার, নাবিল, বসুন্ধরা, সামিট, ওরিয়ন ও জেমকন গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের তদন্ত চলছে। এসব গ্রুপ বা তদন্তাধীন অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ তহবিলের সুবিধা বন্ধ রাখা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, এসব অনিয়ম তদন্তে চারটি সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ তদন্ত দল কাজ করছে। এরই মধ্যে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে কয়েকটি ব্যাংককে ‘লিড ব্যাংক’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো বিদেশি আইনি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অপ্রকাশযোগ্য চুক্তিও করেছে।

তবে নতুন তহবিল নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, অর্থনীতির বর্তমান সংকটে উৎপাদনমুখী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে থাকায় নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল বাজারে অতিরিক্ত তারল্য সৃষ্টি করবে, যা সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে কারা সুবিধা পাবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোই বিশেষ তহবিলের বড় অংশের সুবিধা নিয়ে থাকে। পরে এসব ঋণের একটি বড় অংশ খেলাপিতে পরিণত হয়। তাই নতুন তহবিলেও একই ধরনের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। ফলে নতুন তহবিল কার্যকর করতে হলে কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি হবে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, সরকার বন্ধ কারখানা চালুর যে উদ্যোগ নিচ্ছে তা কিছু ব্যাক্তি ও গোষ্ঠীকেই উপকৃত করবে। প্রথমে জানতে হবে কারখানা বন্ধ হলো কেন? যদি তার সবকিছুই ঠিক থাকে তা হলে তো রি-ফাইন্যান্সের প্রয়োজন পড়ে না। তার ওপর সরকার আবার সুদের ৫ শতাংশ ভর্তুকি প্রদান করবে। এই সুবিধাগুলো আসলে কিছু লোকের জন্যই যারা ফ্রি মানি এবং চিপ কস্টে মানি পেতে যায়। সরকার এখানে যতই ভর্তুকি দিক, আলটিমেটলি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কোনো কিছুই এখান থেকে আশা করা যায় না। তিনি বলেন, আইএমএফের শর্তে যদি রি-ফাইন্যান্স না করার বিষয়ে বলা হয়ে থাকে তা হলে তারা এই শর্ত লঙ্ঘনের কারণে ঋণের বকেয়া কিস্তি ছাড় করবে না- এটিই সত্য।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সময়ের আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত সরকার যেহেতু কোনো ঘোষণা দেয়নি তাই প্রকৃতপক্ষে কত টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল হবে সেটি বলা যাবে না। এমনকি সরকার ঋণের সুদ ভর্তুকি দেবে বলে যা শোনা যাচ্ছে এগুলো সবই উড়ো কথাবার্তা। সরকার এখন ক্ষতিগ্রস্ত কলকারখানার তালিকা নিচ্ছে। এরপর এগুলো সচল করতে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন এবং সরকার কতটুকু করতে পারবে তা নিয়ে কাজ হবে।

পুনঃঅর্থায়নের ক্ষেত্রে আইএমএফের বিধিনিষেধের বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু রি-ফাইন্যান্স নিয়ে আইএমএফের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাই বিষয়টি মাথায় রেখেই সরকার চিন্তাভাবনা করবে যে, কোনো প্রক্রিয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানকে রি-ফাইন্যান্স করা যায় এবং কতটুকু করা যায়। এগুলো সবকিছু নিয়েই ওয়ার্কআউট হবে।

রি-ফাইন্যান্স স্কিমে কয়েকজন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সুবিধাভোগী হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি কাজ শুরু করার আগেই যদি এত ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা শুরু হয়, তা হলে তো সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান সেই কাজটি শুরু করার সাহস দেখাবে না। মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা কোনো সমাধান নয়। ব্যথা যাতে না হয়, সে জন্য যে ওষুধ দরকার সেটি খেতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কনসাস থাকতে হবে। তারা যে প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন করছে সেটি যেন যথাযথ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে সে বিষয়ে ব্যাংককেই দায় নিতে হবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ঋণ নিয়মিত না থাকলে নতুন অর্থায়ন পাওয়া কঠিন। তাই কারখানা সচলের স্বার্থে ঋণ পুনঃতফসিলের ডাউন পেমেন্টের শর্ত কিছুটা শিথিল করার চিন্তা করা হচ্ছে। এ ছাড়া কারখানা চালু হওয়ার পর আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের জন্য এলসি সুবিধাও দেওয়া হতে পারে।

অবশ্য এরই মাঝে বাংলাদেশ ব্যাংক মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়েই ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়েছে। আগে ঋণ পুনঃতফসিলে অনেক ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ডাউন পেমেন্ট দিতে হতো। নতুন সুবিধার ফলে দীর্ঘদিনের খেলাপিরাও নামমাত্র অর্থ জমা দিয়ে নিয়মিত ঋণগ্রহীতা হয়ে যাচ্ছেন।

ব্যাংকারদের একটি অংশ বলছেন, এ সিদ্ধান্তে সাময়িকভাবে খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান কিছুটা কম দেখানো সম্ভব হলেও এতে প্রকৃত আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরে না। বরং দুর্বল গ্রাহকদের প্রতি অতিরিক্ত ছাড় দিলে ভবিষ্যতে ঋণ ফেরতের সংস্কৃতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আইএমএফও বরাবরই খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা এবং পুনঃতফসিলে কঠোরতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে আসছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অন্যদিকে শিল্প ও কর্মসংস্থান সচল রাখা। আর সেই ভারসাম্য রক্ষা করতেই এখন সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

উল্লেখ্য, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের জুনে ৮০ কোটি ডলার বেড়ে ঋণ কর্মসূচির আকার ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। আইএমএফ থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা। বাকি আছে ১৮৬ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও এখন তা পাওয়া যায়নি।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল  আইএমএফ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: