এবার উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় (এইচএসসি ও সমমান) উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের কারণসম্পর্কিত একটি লিখিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, যা সংসদে শিক্ষামন্ত্রী এমপিদের প্রশ্নের জবাবে তুলে ধরবেন। প্রতিবেদনে অনুপস্থিতির নেপথ্যে মোটাদাগে বাল্যবিয়ে, গর্ভধারণ, দরিদ্রতা, বিদেশ গমন এবং মামলাজনিত বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
প্রথা অনুযায়ী শিক্ষা বোর্ডগুলো প্রতি বছর শুধু অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর মোট সংখ্যা নিরূপণের জন্য তথ্য সংগ্রহ করে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এ বছর এসএসসি ২০২৫-এর পরীক্ষায় অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মোট সংখ্যা নিরূপণের পাশাপাশি অনুপস্থিতির কারণ অনুসন্ধানের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছে। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ নিয়মিত শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না।
গত বছর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৯ শতাংশের কিছু বেশি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে অনুপস্থিতির হার প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। গত বছর এই হার ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুয়ায়ী, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এইচএসসি পরীক্ষায় ৩৮ হাজার ১৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের জন্য ফরম ফিলাপ করে। দেখা গেছে- এর মধ্যে ৬ হাজার ৩৮৯ জন পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকে, যা শতকরায় দাঁড়ায় ১৬.৭৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১০ বছরের শিক্ষা কার্যক্রম শেষে ফরম ফিলাপ করেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা উদ্বেগের বিষয়। এর মধ্যে প্রতিবেদনে ১ হাজার ৩৫০ জন অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মোট ৬ হাজার ৩৮৯ অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ১ হাজার ৩৫০ জনের তথ্য সংগ্রহ নমুনা হিসেবে যথেষ্ট (৯৫ শতাংশ আত্মবিশ্বাস স্তর এবং ৫ শতাংশ ভুলের মাত্রা) বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুপস্থিতির চিত্র :
২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে অপারগতার কারণগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়- অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের অধিকাংশই মেয়ে শিক্ষার্থী, অনিয়মিত শিক্ষার্থীর চেয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির হার অধিক। তা ছাড়া শহর অঞ্চলের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার অনেক বেশি। ৫৪৯ জন অর্থাৎ প্রায় ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী বিয়ের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি, নিজের অসুস্থতার জন্য ৩৩৩ জন অর্থাৎ ২৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল।
৯০ জন অর্থাৎ প্রায় ১২ শতাংশ পরীক্ষার্থী ভালো প্রস্তুতির অভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত ছিল। পারিবারিক অসচ্ছলতার জন্য কর্মক্ষেত্রে যোগ দিয়েছে বা বিদেশ চলে গেছে ফলে পরীক্ষায় অনুপস্থিত আছে এমন পরীক্ষার্থীর হার প্রায় ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৪৯ জন। প্রায় ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পারিবারিক অসচ্ছলতার জন্য কর্মক্ষেত্রে যোগ দিয়েছে। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১৯ জন মারা গেছে।
মামলাজনিত কারণে ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত বলে প্রতিবেদনে ওঠে আসে প্রায় দুই শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী অর্থাৎ ২২ জন গর্ভধারণের কারণে পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকছে। এ ছাড়া পরিবারের কোনো সদস্যের অসুস্থতা ও মৃত্যুসহ অন্যান্য কারণে বাকিরা অনুপস্থিত ছিল।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিতি মানবিক শাখায়। এই শাখায় ৫৭ শতাংশ পরীক্ষার্থীই পরীক্ষায় অনুপস্থিত। এরপর আছে ব্যবসায় শিক্ষা; এই শাখার ২৪ শতাংশ অনুপস্থিত। আর বিজ্ঞানে অনুপস্থিতি ১৯ শতাংশ। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষার্থী আর ৩১ শতাংশ আছে অনিয়মিত।
মেয়ে শিক্ষার্থী ৬৯ শতাংশ আর ছেলে ৩১ শতাংশ অনুপস্থিত। অনুপস্থিতির মধ্যে বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীই গ্রামে বসবাস করে। গ্রাম এলাকার ৭৪ শতাংশ আর শহরে ২৬ শতাংশ। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সমতল অঞ্চলে ৯১ শতাংশ, চরাঞ্চলে ৬ শতাংশ ও হাওড় অঞ্চলে ৩ শতাংশ।
বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন-২০১৭-এর ২ ধারা অনুযায়ী ‘বাল্যবিয়ে’ অর্থ ‘এইরূপ বিবাহ যাহার কোনো এক পক্ষ বা উভয় পক্ষ অপ্রাপ্ত বয়স্ক’। আইনের ওই ধারায় আরও বলা হয়েছে যে, ‘অপ্রাপ্ত বয়স্ক’ অর্থ ‘বিয়ের ক্ষেত্রে ২১ (একুশ) বছর পূর্ণ করেন নাই এমন কোনো পুরুষ এবং ১৮ (আঠারো) বছর পূর্ণ করেন নাই এমন কোনো নারী’। বয়স বিবেচনা করলে ছেলে বা মেয়ে কোনো এসএসসি পরীক্ষার্থীর বয়সই সাধারণ হিসেবে ১৮ বছর বা তার অধিক হওয়ার কথা নয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪১ শতাংশ পরীক্ষার্থী বিয়ে করার কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এই হার অনুপস্থিতির কারণগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। বলা যায়, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিতির প্রধান কারণ বাল্যবিয়ে। বাল্যবিয়ের কারণে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর ৯৭ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী এবং ৮৭ শতাংশ পরীক্ষার্থীর বাসস্থান গ্রামাঞ্চলে।
ঢাকা বোর্ডের আওতাধীন ১৩টি জেলার মধ্যে মানিকগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলায় যথাক্রমে ৬৫ শতাংশ ও ৫৪ শতাংশ পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতির কারণ বাল্যবিয়ে। ঢাকা ছাড়া অন্যান্য জেলার ক্ষেত্রে এই হার ৩৯ শতাংশ থেকে ৪৯ শতাংশ। মানবিক শাখার ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী বিয়ের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। বিয়ের ক্ষেত্রে এগিয়ে ঢাকা জেলা।
একই সঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৩৫০ জন অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? তাদের প্রায় ৫১ শতাংশের জবাব, তারা আর পড়াশোনা করবে না।
বাকিরা জানিয়েছে, পরবর্তী বছরে পরীক্ষা দেবে। যারা বলেছে আর পড়াশোনা করবে না তাদের মধ্যে ৭৪ শতাংশই মেয়ে শিক্ষার্থী।
মন্তব্য প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষার জন্য যারা ফরম ফিলাপ করে তাদের একটা অংশ পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকতেই পারে; কিন্তু অনুপস্থিতির কারণগুলোর মধ্যে এমন কিছু বিষয় দেখা যাচ্ছে যা নিয়ে আরও অনুসন্ধান ও উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন আছে বলেই মনে হয়েছে বোর্ডসংশ্লিষ্টদের।
দেখা যাচ্ছে প্রায় ৪১ শতাংশ পরীক্ষার্থী বাল্যবিয়ের কারণে পরীক্ষা দিতে পারেনি এবং এসব পরীক্ষার্থীর প্রায় ৯৭ শতাংশ হচ্ছে মেয়ে শিক্ষার্থী। ২২ জন মেয়ে শিক্ষার্থী গর্ভধারণের জন্য (প্রায় ২ শতাংশ) পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। নিঃসন্দেহে এগুলো উদ্বেগের বিষয়, বিশেষ করে নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে। প্রায় ৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী পারিবারিক অসচ্ছলতার জন্য কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।
১০ বছর পড়াশোনার পর ফরম ফিলাপ করেও আর্থিক সংকটে পরীক্ষা না দিতে পারাটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। সমাজ বা রাষ্ট্রের কার্যকর সাপোর্ট সিস্টেম থাকলে এদের ভাগ্য ভিন্ন রকম হতে পারত। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ অসুস্থতার জন্য পরীক্ষা দিতে পারেনি। এই ২৫ শতাংশের প্রায় সবাই (৯৭ শতাংশ) পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। এদের অধিকাংশই হয়তো ১-২ মাসের মধ্যে সুস্থ হয়ে যাবে কিন্তু পরবর্তী পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হবে প্রায় ১ বছর। ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী ভালো প্রস্তুতির অভাবে পরীক্ষা দেয়নি যাদের অধিকাংশই (প্রায় ৬৪ শতাংশ) নিয়মিত পরীক্ষার্থী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ ধরনের শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে তা ভেবে দেখা দরকার।
যেভাবে তথ্য সংগ্রহ করে ঢাকা বোর্ড :
ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলার বিভিন্ন উপজেলার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। গুগল ফরমের (পরিশিষ্ট) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের তথ্য শিক্ষা বোর্ডে প্রেরণ করে।
অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর তথ্য সংগ্রহের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরীক্ষার্থী বা তার অভিভাবকের (বাবা-মা-পরিবারের অন্য কোনো সদস্য-আইনগত অভিভাবক) সঙ্গে সশরীরে বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অপারগতার কারণ এবং পড়াশোনা চলমান রাখার ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এ দুটি বিষয় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষার্থীর আনুষঙ্গিক কিছু তথ্যও (যেমন- পরীক্ষার্থীর ধরন, গ্রুপ, লিঙ্গ, অঞ্চল ইত্যাদি) সংগ্রহ করা হয়।
গত ১ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন বলেন, পরীক্ষায় অনুপস্থিতির প্রবণতার পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করার কাজ চলছে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার সময়ের আলোকে বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় নির্ধারিত বছরে পরীক্ষায় অংশ নেয় না। তারা পরের বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তবে এত অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। সবাই সহসাই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে চায়। আর গ্রামের মেয়েরা পড়াশোনা ক্ষান্ত দিয়ে নানা কারণে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক সময়ের আলোকে বলেন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এই পরিসংখ্যান আমাদের শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থার জন্য একটি উদ্বেগজনক বিষয়। পাশাপাশি বাল্যবিয়ের যে উপস্থিতি এবং যার ফলে পরীক্ষায় বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত এটিও একটি চিন্তার বিষয়। কারণ এটি কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ছাড়া অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে গ্রামীণ এলাকার হার বেশি হওয়ার হওয়ায় সেখানে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সহায়তার জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে মামলাজনিত শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত সেটা কিন্তু দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি বিষয় এখানে চলে আসে। যার ফলশ্রুতিতে শিক্ষা অব্যাহত রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সোসাইটি বা সমাজের সবারই সমন্বিত একটা উদ্যোগ দরকার এই সংকট মোকাবিলায়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান সময়ের আলোকে বলেন, বাল্যবিয়ে একটা কারণ; কিন্তু এর পেছেনে যেতে হবে। কেন বাল্যবিয়ে হচ্ছে তার কারণ খুঁজতে হবে। শুধু প্রতিষ্ঠান বাড়ালেই হবে; শিক্ষা অঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বেশি ফেল করা অর্থাৎ কঠিন সাবজেক্টের জন্য প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। আর শহর ও গ্রামকে সমগুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষায় বৈষম্য হলে পরীক্ষায় অনুপস্থিতি বাড়বে। সর্বোপরি লেখাপড়ার পদ্ধতিগত দুর্বলতা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দুর্বল দিক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে সুসম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে হবে।
এ ছাড়া এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ব্যাপক অনুপস্থিতির বড় কারণ হিসেবে এই অধ্যাপক জুলাই গণঅভুত্থানকেও সামনে রাখতে চান। তিনি মনে করেন, তখনকার অগোছানো পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি তৈরি হয়।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি