মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা শান্তি প্রস্তাবকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে প্রত্যাখ্যান করার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, চলমান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে দেরি হবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
রোববার (১০ মে) ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে যুদ্ধ বন্ধের জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত দেয়। এর মধ্যে ছিল—মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, ইরানি তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা। পাশাপাশি যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকারের দাবিও জানায় তেহরান।
তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। তিনি লেখেন, আমি এটি পছন্দ করিনি, একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
এর পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৪ ডলারের বেশি বেড়ে যায়। কারণ, বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেখানে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলেও। ন্যাটো-এর সদস্য দেশগুলো পূর্ণ শান্তিচুক্তি ছাড়া হরমুজে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।
চলমান সংকট নিয়ে এই সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বেইজিং সফরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওয়াশিংটন আশা করছে, বেইজিং তাদের প্রভাব ব্যবহার করে তেহরানকে আলোচনায় ফিরতে রাজি করাবে।
অন্যদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আনা পর্যন্ত অভিযান শেষ হবে না। তবে কূটনৈতিক সমাধানকেই তিনি সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান “কখনও শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না” এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
এর মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সময়ে কাতার একটি কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং কুয়েত তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে।
/ইউএমএইচ