মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে মোট ৭৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে দুটি বিশাল জাহাজ। জ্বালানি তেলের এই বিশাল সরবরাহ দেশের বর্তমান চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার (১১ মে) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দৈনিক সাড়ে ১২ হাজার টন ব্যবহারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন করে আসা এই ডিজেল দিয়ে দেশের আগামী পাঁচ দিনেরও বেশি সময়ের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। আমদানিকৃত এই জ্বালানি তেল খালাসের পর দ্রুতই তা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বন্দর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সোমবার ভোর ৪টার দিকে মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ডেনমার্কের পতাকাবাহী জাহাজ ‘টর্ম সিঙ্গাপুর’ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে নোঙর করে।
এর কিছুক্ষণ পরই বেলা ১১টার দিকে সিঙ্গাপুর থেকে আরও ৪০ হাজার টন ডিজেলের চালান নিয়ে মাশাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘সি র্যাপোটর’ নামের আরেকটি জাহাজ বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। জাহাজ দুটির স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সকালে জাহাজ দুটি আসার পর এখন লাইটার জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস করার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
এর আগেও জ্বালানি তেলের বেশ কিছু চালান চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। গত ৬ মে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘সেস ব্র্যাভ’ নামের একটি জাহাজ বন্দরে ভিড়েছিল। এছাড়া গত ৪ মে আরও একটি জাহাজ ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে বন্দরে আসে।
একের পর এক জ্বালানি তেলের চালান আসায় দেশের বাজারে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে শিল্প উৎপাদন ও পরিবহন খাতে এই ডিজেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে লাইটারিং বা ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এই জ্বালানি প্রধান ডিপোগুলোতে নেওয়া হয়। প্রাইড শিপিং লাইনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইন সচল রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বয় করে কাজ করছে। এই নতুন চালানের ফলে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ আরও শক্তিশালী হলো।
সময়ের আলো/টিএইচ