জুনে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া খোলাসা হতে পারে

এমএকে জিলানী

প্রবাস

বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ছাড়া বিগত ২০২৪ সালের মে মাস থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। পুত্রজায়া তাদের দেশে

2026-05-12T01:01:51+00:00
2026-05-12T01:01:51+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
প্রবাস
জুনে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া খোলাসা হতে পারে
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১:০১ এএম 
সংগৃহীত ছবি
বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ছাড়া বিগত ২০২৪ সালের মে মাস থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। পুত্রজায়া তাদের দেশে বিদেশি কর্মী নিয়োগে দালালমুক্ত ও জিরো কস্ট নিয়োগের লক্ষ্যে এআইভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে। আগামী জুন মাসে এই বাজারের নিয়োগ প্রক্রিয়া খোলাসা হতে পারে, যা আগামী জুলাই মাসে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হিসাবে আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাসে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ স্বাভাবিক হওয়ার হতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক জনশক্তি নিয়োগ চুক্তি সই হয় বিগত ১৯৯২ সালে। ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সে দেশে বাংলাদেশি শ্রমিক রফতানি বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন মালয়েশিয়ায় যান। ২০২৪ সালের ৩১ মে শ্রমবাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হওয়া এই শ্রমবাজার চালু করতে দুপক্ষের মধ্যে গত এপ্রিল মাসে বৈঠক হয়েছে। দুপক্ষই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে বন্ধ শ্রমবাজার চালু করতে কাজ করছেন। আগামী এক বছরে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে ৩০-৪০ হাজার নতুন কর্মী নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মালয়েশিয়া মূলত বিদেশ থেকে দুই ধরনের কর্মী সংগ্রহ করে। একটি হচ্ছে কম দক্ষতাপূর্ণ কর্মী, যাকে কলিং ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট বলা হয়। আরেকটি হচ্ছে দক্ষকর্মী, যাকে এমপ্লয়মেন্ট পাস বা ইপি ভিসা বলা হয়। মালয়েশিয়া সরকার তাদের দেশে প্রবাসী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে, যা আগামী এক জুন থেকে কার্যকর হবে। মালয়েশিয়া মূলত তাদের দেশে অতীতের মতো বিশাল আকারের কর্মী নিয়োগ দিতে চায় না। মালয়েশিয়া সরকার নিজেদের স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে চায় এবং বিদেশি কর্মীর অনুপাত কমাতে চায়। এ জন্য আগামী ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশটি বিদেশি কর্মী নিয়োগ ৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য স্থির করেছে এবং সেই মোতাবেক কাজ করছে। বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে মালয়েশিয়া নতুন করে এআইভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে দালালমুক্ত ও শূন্য ব্যয়ে কর্মী নিয়োগ। নতুন এই প্রক্রিয়ায় দেশটি বিদেশি কর্মীর ওপর ট্যাক্স (মাল্টি টায়ার লেভি মেকানিজম বা এমটিএলএম) বাড়ানো, বিদেশি কর্মীদের কর্মচারী ভবিষ্যৎ তহবিল (এমপ্লয়ি প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফ) এবং সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থা (সোশ্যাল সিকিউরিটি অরগানাইজেশন বা এসওসিএসও) খাতের তহবিল বাড়ানোর চিন্তা করছে (বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে এমটিএলএম এবং এসওসিএসও গত ২০২৫ সাল থেকেই কার্যকর হয়েছে)।

বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে মালয়েশিয়া নতুন করে এআইভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার জন্য সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি হিসেবে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছে। যেখানে ডিজিটাল বা এআইভিত্তিক নিয়োগ সিস্টেম নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও স্টেকহোল্ডার বৈঠক করেছে। তাদের প্রস্তাবিত নতুন এই সিস্টেমের নাম বেস্টিনেট। গত ২১ এপ্রিল 

মালয়েশিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের নতুন কর্মপন্থার প্রস্তাব এখনও পর্যালোচনাধীন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই বিষয়ে সোর্স কান্ট্রি, শিল্প মালিক এবং অন্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে একাধিক আলোচনা হয়েছে। নতুন এই প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে প্রথমে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদন করবে। তারপর সেটা তাদের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উঠবে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুমোদন করার পর তা কার্যকর হবে। আগামী জুন মাসে এই নতুন প্রক্রিয়া দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিতে পারে, যা আগামী জুলাই মাসে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হিসাবে আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাসে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মালয়েশিয়ার নতুন এই কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত একটি ডিজিটাল পোর্টাল তৈরি হবে, যেখানে মালয়েশিয়ান নিয়োগদাতারা রেজিস্ট্রেশন করে সরাসরি কর্মী খুঁজতে পারবেন। সেখানে সোর্স কান্ট্রি (বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল ইত্যাদি) থেকে যোগ্য কর্মীদের প্রোফাইল থাকবে, যা এআইয়ের সহায়তায় ম্যাচিং, স্ক্রিনিং ও প্রক্রিয়া দ্রুত হবে। এদিকে নতুন এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মালয়েশিয়ায় বিতর্ক উঠেছে। কেননা আগের যে পদ্ধতি বা কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় এফডব্লিউসিএমএস (বিদেশি কর্মী কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা সিস্টেম) পদ্ধতি ফলো করা হতো। এই এফডব্লিউসিএমএস নিয়ে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। 

মালয়েশিয়ার অনেকেই এই বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপন করে বলছেন, এফডব্লিউসিএমএস পদ্ধতি যারা নিয়ন্ত্রণ করত, তাদের মাধ্যমেই নতুন পদ্ধতি বেস্টিনেট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এতে এই খাতে আবারও দুর্নীতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে মালয়েশিয়া সরকার বলছে, এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি এবং বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

মালয়েশিয়া মূলত বিশ্বের প্রায় ১৫টি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করে। যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার (২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী) থেকেই বেশি নিয়োগ করে। দেশটি মূলত প্ল্যানটেশন (পাম অয়েল), উৎপাদন খাত, সার্ভিস ও ট্যুরিজম এবং কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে কর্মী নিয়ে থাকে।

সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞ এসএম সেকিল চৌধুরী দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, মালয়েশিয়া আমাদের অনেক পুরোনো বন্ধুদেশ। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম জনশক্তি রফতানির গন্তব্য। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই বাজার নিয়ে আমরা অনেক মিসইউজ করেছি। মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীরাও অনেক মিসইউজ করেছে। এই খাতে সিন্ডিকেটের বিষয়টি সবাই জানেন। আমাদের প্রত্যাশা যে বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট বাণিজ্য দূর করতে দৃঢ় ভূমিকা রাখবে। বর্তমান সরকার গত এপ্রিল মাসে এই বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছে। দুটি সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই এই সমস্যা দূর করা সম্ভব। আমাদের প্রত্যাশা যে দুই দেশের সরকারই সক্রিয় থাকবে, যাতে এই খাতে সিন্ডিকেটের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, মূলত দুর্নীতির কারণেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য বন্ধ রয়েছে। দুর্নীতি নির্মূল না করেই যদি আবার এই শ্রমবাজার চালু করা হয়, তবে তা আবারও মুখ থুবড়ে পড়বে। গত মাসে আমাদের সরকার মারয়েশিয়ার সঙ্গে এই বিষয়ে বৈঠক করে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কিন্তু এই শ্রমবাজার নিয়ে যে দুর্নীতি, এটা সবাই অনেক দিন ধরে জানে যে এটা মালয়েশিয়া থেকে হচ্ছে। পুরো ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ওখানকার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জড়িত। সেই জায়গায় যদি আমরা চাপ দিতে না পারি, অর্থাৎ দুর্নীতি নির্মূল করতে না পারি তা হলে অতীতের মতো ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটবে।


  বিষয়:   মালয়েশিয়া  শ্রমবাজার  বাংলাদেশ  কর্মী 


Loading...
Loading...
প্রবাস- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: