যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে উদ্ধার করতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি রফিকুল ইসলাম সোহাগ (৪৭) মারা গেছেন। ঘটনার ২১ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) ব্রুকলিনের বাইতুল মামুন মসজিদে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর নিউ জার্সির একটি মুসলিম কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন ভোরে নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন দুইতলা আবাসিক ভবনের বেজমেন্টে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এফডিএনওয়াই) প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি লিথিয়াম-আয়ন চালিত ডেলিভারি ই-বাইকের ব্যাটারি বিস্ফোরণ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুন লাগার মুহূর্তে সোহাগের স্ত্রী ও দুই সন্তান গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই বিষাক্ত ধোঁয়া ও আগুন পুরো বেজমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের জীবনের পরোয়া না করে, বীরত্বের সাথে একে একে স্ত্রী ও সন্তানদের নিরাপদ স্থানে বের করে আনেন সোহাগ।
তবে পরিবারের সবাইকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারলেও, তিনি নিজে মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হন এবং ফুসফুসে বিষাক্ত ধোঁয়া প্রবেশ করায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম সোহাগের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ২ নম্বর নদনা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিউইয়র্কে বসবাস করছিলেন।
সোহাগের এই মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অনেকেই তাকে একজন প্রকৃত ‘সুপারহিরো বাবা’ এবং আত্মত্যাগী মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন।
সময়ের আলো/জেডি