থাইল্যান্ডের আধুনিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত পুরুষ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা সোমবার ব্যাংককের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে এক বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৭৬ বছর বয়সী এই ধনকুবের আট মাস কারাভোগের পর প্যারোলে মুক্তি লাভ করেন।
সোমবার (১১ মে) ভোরে ব্যাংককের ক্লোং প্রেম সেন্ট্রাল কারাগারের সামনে থাকসিনের মুক্তি উপলক্ষে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় ৩০০ সমর্থক ও রাজনৈতিক মিত্র। কারাগারের ফটক দিয়ে সাদা পোলো শার্ট ও নীল প্যান্ট পরে বেরিয়ে আসতেই তাকে ঘিরে ধরেন পরিবারের সদস্যরা। এসময় তার সাথে ছিলেন কনিষ্ঠ কন্যা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। উৎফুল্ল সমর্থকদের ‘আমরা থাকসিনকে ভালোবাসি’ স্লোগান আর লাল গোলাপের শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে তিনি ব্যাংককের পশ্চিম প্রান্তে নিজ বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা থাকসিনকে ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ২০২৩ সালে তিনি বীরের বেশে দেশে ফেরেন। শুরুতে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন তা কমিয়ে এক বছর করেন। প্রথম দিকে শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে হাসপাতালের বিলাসবহুল কেবিনে থাকার অনুমতি পেলেও জনরোষ ও আদালতের নির্দেশে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, থাকসিনের কারামুক্তির এই আনন্দ এক তিক্ত সময়ে এল যখন তার রাজনৈতিক দল ‘ফেউ থাই’ চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে তার কন্যা পেতংতার্ন থাইল্যান্ডের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করলেও ২০২৫ সালের আগস্টে আদালতের নির্দেশে তিনি পদ হারান। কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনের সাথে এক আপত্তিকর ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার জেরে সাংবিধানিক আদালত তাকে সরিয়ে দেয়। এমনকি চলতি বছরের সাধারণ নির্বাচনেও থাকসিনের দল তৃতীয় অবস্থানে নেমে এসেছে।
প্যারোলে মুক্তি পেলেও আগামী চার মাস থাকসিনকে কড়া নজরদারিতে থাকতে হবে। তাকে সার্বক্ষণিক ইলেকট্রনিক মনিটরিং ব্রেসলেট পরতে হবে এবং নিয়মিত প্রবেশন কর্মকর্তাদের কাছে হাজিরা দিতে হবে।
থাইল্যান্ডের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা থাকলেও অভিজাত ও রাজতন্ত্রী গোষ্ঠীর কাছে থাকসিন আজও এক আতঙ্কের নাম। দীর্ঘ সময় নিভৃতে থাকা থাকসিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৌতুক করে বলেন, আমি তো শীতনিদ্রায় (হাইবারনেশন) ছিলাম, এখন আমার কিছুই মনে পড়ছে না।
/কহু