তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করে গত রোববার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দক্ষিণী সিনেমার মেগাস্টার জোসেফ বিজয়। তার নবগঠিত দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) বিধানসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে জয়ী হওয়ার পর এই রাজকীয় অভিষেক হলো। তবে বিজয়ের এই রাজনৈতিক সাফল্যের দিনেও আলোচনায় ছায়া ফেলেছে তার ব্যক্তিগত জীবনের চরম সংকট। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী সঙ্গীতা এবং দুই সন্তান- সঞ্জয় ও দিব্যার অনুপস্থিতি পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিবাদকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই বিজয়ের পরিবারের সদস্যদের দেখা যায়নি। এমনকি দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে স্ত্রী সঙ্গীতা ইতোমধ্যে চেঙ্গলপত্তুর জেলা পারিবারিক আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, এক অভিনেত্রীর সঙ্গে বিজয়ের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক এই বিচ্ছেদের মূল কারণ। অন্যদিকে, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের সরব উপস্থিতি এই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে।
রাজনীতিতে আসার আগে এক সাক্ষাৎকারে বিজয় তার সন্তানদের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন। ছেলে সঞ্জয়ের চলচ্চিত্রে অভিষেক নিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, সন্তানদের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত তিনি চাপিয়ে দেন না। তার ভাষায়, তারা কী করবে সেই পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। ছেলে আপাতত কয়েক বছর অভিনয় থেকে দূরে থাকতে চেয়েছেন এবং বিজয় তাতে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।
পিতা এস এ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে বিজয়ের সম্পর্কের তিক্ততা কারো অজানা নয়। বিজয়ের অনুমতি ছাড়াই তার ফ্যান ক্লাবকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরের চেষ্টা করায় পিতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা পর্যন্ত নিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই তিক্ততার মাঝেও পিতার গুরুত্ব নিয়ে বিজয়ের কণ্ঠে ফুটে উঠেছিল দার্শনিক সুর। তিনি বলেছিলেন, গাছের ফুলের সৌন্দর্য সবাই দেখে কিন্তু মূলের শ্রম কারো নজরে আসে না; পিতারা হলেন সেই মূল। নিজের জীবনের ভালো গুণগুলো পিতার কাছ থেকেই পেয়েছেন বলে তিনি স্বীকার করেন।
/কহু