জুলাই থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল লেনদেন বাধ্যতামূলক: গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে

2026-05-12T16:06:31+00:00
2026-05-12T16:06:31+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
জুলাই থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল লেনদেন বাধ্যতামূলক: গভর্নর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৪:০৬ পিএম 
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। 

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’র (বিএসআইসি) উদ্বোধনী ফান্ড ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। 

গভর্নর উল্লেখ করেন, ক্যাশলেস সোসাইটি গঠন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ৪২৫ কোটি টাকার মূলধন বিনিয়োগের পাশাপাশি এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতে আরও ৫০০ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশের ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সম্মিলিত অংশগ্রহণে ৪২৫ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’। ব্যাংকগুলো তাদের বার্ষিক মুনাফার ১ শতাংশ প্রদানের মাধ্যমে এই বিশেষ তহবিল গঠন করেছে, যা ধারাবাহিকভাবে সিড, লেট সিড এবং সিরিজ-এ পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সহযোগিতা দেবে।

বিএসআইসি-র চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন জানান, এই সুবিধা কেবল প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও (এসএমই) এখান থেকে মূলধনের জোগান পাবেন। এই উদ্যোগের ফলে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত একটি সর্বজনীন ও আন্তঃলেনদেনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে একটি মাত্র কোড স্ক্যান করে যেকোনো ব্যাংক অ্যাপ বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস যেমন বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে নিরাপদে লেনদেন করা সম্ভব। 

গ্রাহকরা এখন ছোট মুদি দোকান থেকে শুরু করে বড় শপিং মলে স্মার্টফোনের মাধ্যমে দ্রুত পেমেন্ট নিশ্চিত করতে পারবেন। অন্যদিকে বিক্রেতাদের জন্য সুবিধা হলো, তাদের হিসেবে প্রতিটি লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকাভুক্ত থাকবে এবং কোনো পৃথক অ্যাপ বা ডিভাইসের ঝামেলা ছাড়াই ক্রেতার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

বাংলা কিউআর কোড গ্রহণের প্রক্রিয়াটিও বেশ সহজ করা হয়েছে। যেকোনো ব্যাংকে সঞ্চয়ী, চলতি কিংবা এসএনডি হিসাব থাকলে এবং একটি বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে যে কেউ এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্দিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিলে সাধারণত ৩ থেকে ৪ কার্যদিবসের মধ্যে কিউআর কোড তৈরি হয়ে যায়। 

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা মাইক্রো মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে মাসিক লেনদেনের সীমা ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলে শুধুমাত্র এনআইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি প্রয়োজন হবে। তবে রেগুলার মার্চেন্ট বা ১০ লক্ষ টাকার বেশি লেনদেনকারীদের ক্ষেত্রে এনআইডি ও ছবির পাশাপাশি টিন সার্টিফিকেট এবং রিটার্ন স্লিপ জমা দিতে হবে।

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: