এনসিপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে পারলে সীমান্তজুড়ে মাদক পাচার বন্ধে ঐতিহাসিক খন্দকের যুদ্ধের আদলে বিশাল খাল খনন করবে বলে জানিয়েছে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বিএসএফের গুলিতে নিহত কলেজছাত্র মো. মোরসালিনের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, বর্তমানে সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদক চোরাচালান রোধে প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না, যার ফলে দেশের যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
সীমান্তে একের পর এক বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপি নেতা বলেন, সরকার যদি সীমান্ত হত্যা বন্ধে দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারে, তবে তার দল সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের দিকে ‘লংমার্চ’ করতে দ্বিধা করবে না।
এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র দফতরের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সীমান্ত হত্যা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে না পারলে দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের ঘরে বসে থাকা উচিত। বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা কীভাবে প্রবেশ করছে, সেই জবাব স্বরাষ্ট্র বিভাগকে দিতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।
এলাকার আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করতে গিয়ে কসবায় একজন সাংবাদিককে প্রাণ দিতে হয়েছে, যা প্রমাণ করে বর্তমানে নাগরিক কিংবা সাংবাদিক—কেউই নিরাপদ নন।
কসবায় আসার পথে তিনি নিজেও বিভিন্ন স্থানে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন এবং এই বাধার পেছনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লোকজনের হাত রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে দেশের যেকোনো প্রান্তে যাওয়ার অধিকার তার রয়েছে এবং এই চলাচলে বাধা দেওয়া অসাংবিধানিক।
কবর জিয়ারত শেষে এনসিপি-র প্রতিনিধি দলটি বিজিবি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য উইংয়ের সমন্বয়ক ডা. আশরাফ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সংগঠক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান, মোস্তাক আহমেদ শিশির এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক তারেক আদেল। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের দাবি জানান।
সময়ের আলো/টিএইচ