উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ (সোর্স সেগ্রিগেশন) কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সবুজ ও হলুদ রঙের পৃথক বর্জ্য বিন এবং পলিব্যাগ বিতরণের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মো. হুমায়ুন কবীর।
নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে হলে প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে। বর্জ্য রাস্তায় নয়, নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সোসাইটি, মসজিদ কমিটি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি মালিক সমিতির মাধ্যমে এই সচেতনতা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। এ কাজে সিটি কর্পোরেশন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
তিনি আরও বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ, খাল-নালা পরিষ্কার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে ডিএনসিসি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে নাগরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।
কার্যক্রমের বিস্তারিত
প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হলো উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ। ২০২১ সালের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালায় এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তিনি জানান, সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি ধর্মীয় স্থান থেকে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জনসমাগম বেশি হয় এমন স্থান-মসজিদ, মন্দির, গির্জা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও টার্মিনালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রথম ধাপে মোট ৫০০টি ফাইবার বিন বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৫০টি সবুজ এবং ২৫০টি হলুদ বিন। প্রতিটি বিনের সঙ্গে ১০০টি করে ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। বিনে সংযুক্ত নির্দেশনামূলক লেবেলের মাধ্যমে কোন বর্জ্য কোন বিনে ফেলতে হবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিএনসিসির ১০টি জোনে পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বর্জ্য ফেলার নিয়ম
সবুজ বিনে জৈব ও পচনশীল বর্জ্য যেমন রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট খাবার, শাকসবজি ও ফলের খোসা, মাছ-মাংসের বর্জ্য, পাতা-ঘাস, বাগানের বর্জ্য, চা পাতা ও ডিমের খোসা ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হলুদ বিনে অজৈব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য যেমন প্লাস্টিক বোতল ও প্যাকেট, কাগজ, কার্টন, পত্রিকা, কাঁচ, টিনজাত বস্তু, ধাতব ক্যান ও শুকনো প্লাস্টিক সামগ্রী ফেলার নির্দেশনা রয়েছে।
এ ছাড়া ভেজা ও শুকনো বর্জ্য একসঙ্গে না ফেলা, ধারালো বা ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য আলাদাভাবে রাখা, বিনের ঢাকনা বন্ধ রাখা এবং রাস্তা, ড্রেন বা খোলা স্থানে বর্জ্য না ফেলার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আরবিএন