বড় বাজারগুলোতে কমছে পোশাক রফতানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

ইউরোপ-আমেরিকার মতো বড় বাজারগুলোতে কমছে তৈরি পোশাক রফতানি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে মোট পোশাক রফতানি কমেছে ২ দশমিক

2026-05-13T04:09:42+00:00
2026-05-13T04:09:42+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
বড় বাজারগুলোতে কমছে পোশাক রফতানি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৪:০৯ এএম 
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে মোট পোশাক রফতানি কমেছে ২ দশমিক ৮২ শতাংশ। ছবি : সংগৃহীত
ইউরোপ-আমেরিকার মতো বড় বাজারগুলোতে কমছে তৈরি পোশাক রফতানি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে মোট পোশাক রফতানি কমেছে ২ দশমিক ৮২ শতাংশ। 

এই সময়ে প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রফতানি কমেছে ৪ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কমেছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। একই সঙ্গে নতুন বাজারগুলোতেও কমছে পোশাক রফতানি। 

মূলত তৈরি পোশাকের রফতানি বাজারে প্রায় অর্ধেক প্রতিনিধিত্ব করা এই দেশটিতে রফতানির বড় ধাক্কায় সার্বিকভাবে পোশাকের রফতানি কমে গেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক পোশাক রফতানির ওপর হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। 

প্রাপ্ত তথ্যমতে, অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে পোশাক রফতানি থেকে মোট আয় হয়েছে ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে নিটওয়্যার রফতানি কমেছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং ওভেন খাতে কমেছে ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

গত ১০ মাসে ইইউ অঞ্চলে ১৫ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে, যা মোট রফতানির প্রায় ৪৯ শতাংশ। এই অঞ্চলের আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমেছে।

এ ছাড়া অপ্রচলিত বা নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারেও পোশাক রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অপ্রচলিত দেশগুলোতে ৫ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানির মাধ্যমে মোট রফতানি বাজারের ১৬ শতাংশের বেশি দখল রয়েছে। 

তবে গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের তুলনায় এবার একই সময়ে এসব বাজারে রফতানি আয় কমেছে ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রফতানিতে বড় ধরনের পতনই সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচক করেছে। এ ছাড়া অপ্রচলিত বাজারে রফতানি কমে যাওয়া এ ক্ষেত্রে কিছুটা নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে ৮.৩ শতাংশ

এদিকে অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বাংলাদেশ ২০৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। এই রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম। গত বছর এই বাজারে বাংলাদেশ ৮২০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করে।

অন্যদিকে চীনের রফতানি প্রায় ৫৩ শতাংশ কমে গেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি ১৭০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটি রফতানি করেছিল দ্বিগুণের বেশি অর্থাৎ ৩৬১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক।

এদিকে বাজারটিতে শীর্ষ রফতানিকারক ভিয়েতনাম চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ৩৯৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। এই রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। বর্তমানে বাজার হিস্যার ২২ শতাংশ ভিয়েতনামের দখলে রয়েছে। আর বাংলাদেশের আছে সাড়ে ১১ শতাংশ।

অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ১২২ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে ইন্দোনেশিয়া। গত বছরের একই সময়ে তাদের রফতানি ছিল ১২৩ কোটি ডলার। সেই হিসেবে তাদের রফতানি কমেছে দশমিক ১৩ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের রফতানি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চে ১১০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করে ভারত। গত বছরের একই সময়ে তাদের রফতানি ছিল ১৫১ কোটি ডলার। তার মানে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটির রফতানি কমেছে ২৭ শতাংশ।

পোশাকের দাম কমেছে : যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা গত মার্চে বৈশ্বিক বাজার থেকে পোশাক আমদানি মূল্য ২ দশমিক ৩১ শতাংশ কমিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের পোশাকের দাম কমেছে ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। 

গত বছর মার্চে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের গড় মূল্য ছিল ২ ডলার ৯৪ সেন্ট প্রতি স্কয়ার মিটার, তবে চলতি বছরের মার্চে দাম কমে নেমে আসে ২ ডলার ৮৬ সেন্টে। শীর্ষে থাকা ভিয়েতনামের কমেছে ২ দশমিক ১৮ শতাংশ। প্রতি স্কয়ার মিটার ৩ ডলার ৩৬ সেন্ট থেকে কমে ৩ ডলার ২৯ সেন্টে নেমে এসেছে। 

সবচেয়ে বেশি কমেছে চীনের সাড়ে ২১ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ১১ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে অর্থনৈতিক ধীরগতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের কারণে পোশাকের চাহিদা কমেছে। 

ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলো নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রফতানিতে। বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী মাসগুলোতেও পোশাক খাতে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা। 

একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতাও বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

চীনের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ : অবশ্য পাল্টা শুল্কের কোপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের তৈরি পোশাক রফতানি ব্যাপকভাবে কমেছে। সেই সুযোগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তৈরি পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থান দখল করে নেয় বাংলাদেশ। মার্চ শেষেও সেই অবস্থান কিছুটা সুসংহত রয়েছে। আর ভিয়েতনাম শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ পাঁচ তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশের মধ্যে শুধু ভিয়েতনামের রফতানিতে পৌনে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চীন, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের রফতানি কমেছে। 

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

অটেক্সার প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে ১ হাজার ৭৭৩ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ কম।

অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বাংলাদেশ ২০৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। এই রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম। গত বছর এই বাজারে বাংলাদেশ ৮২০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করে।

অন্যদিকে চীনের রফতানি প্রায় ৫৩ শতাংশ কমে গেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি ১৭০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটি রফতানি করেছিল দ্বিগুণের বেশি অর্থাৎ ৩৬১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক।

/এসএকে


  বিষয়:   বাজার  পোশাক  রফতানি  বাংলাদেশ  অর্থ 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: