২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে। অথচ বাংলাদেশে এখনো নিশ্চিত নয় খেলা সম্প্রচার হবে কি না। সম্প্রচার স্বত্বের উচ্চমূল্য, সরকারি সিদ্ধান্তহীনতা এবং বেসরকারি খাতের অনাগ্রহ- সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই শুরু হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। কিন্তু কোটি ফুটবলপ্রেমীর দেশ বাংলাদেশে এখনো নিশ্চিত নয়- টেলিভিশনের পর্দায় বিশ্বকাপ দেখা যাবে কি না।
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপ ঘিরে দেশের অলিগলি, ক্যাম্পাস, চায়ের দোকান কিংবা ছাদে ছাদে যে উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল, এবার সেই আবহে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার ছায়া। কারণ এখন পর্যন্ত কোনও টেলিভিশন চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব কেনেনি।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড। বাংলাদেশি সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে তাদের কাছ থেকেই অনুমতি নিতে হবে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য প্রায় ১৫১ কোটি টাকা দাবি করেছে। করসহ এই ব্যয় ২০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। বিপুল এই অর্থ পরিশোধে আগ্রহ দেখাচ্ছে না সরকারি বা বেসরকারি কোনও পক্ষ।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি অতীতে প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপ সম্প্রচার করলেও এবার তারা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। বিটিভির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, এত বড় ব্যয় বহন করা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
খরচ কমানোর আশায় ফিফার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছে বিটিভি। বিনা মূল্যে অথবা কম মূল্যে সম্প্রচার সুবিধা পাওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে একাধিক ই-মেইলও পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর অল্প সময় বাকি থাকলেও আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
২০২২ বিশ্বকাপে সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত থাকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবার পিছিয়ে আছে। তাদের মতে, এবারের ম্যাচগুলোর বড় অংশ হবে বাংলাদেশ সময় গভীর রাত ও ভোরে। ফলে দর্শকসংখ্যা এবং বিজ্ঞাপন- দুই দিক থেকেই ঝুঁকি রয়েছে।
আরও পড়ুন
অর্থনৈতিক চাপের সময় এত বড় বিনিয়োগ করে লাভ তুলতে পারবে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সরকার চাইলে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে সম্প্রচার নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে। ২০২২ সালেও শেষ মুহূর্তে বিশেষ বাজেটের অর্থ ব্যবহার করে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল বিটিভি। তবে এবার ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগছে।
বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের উন্মাদনা বিশ্বজুড়ে আলোচিত। ফিফাও অতীতে বাংলাদেশের ফুটবল আবেগের প্রশংসা করেছে। তাই অনেকেই মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত কোনও না কোনও সমাধান আসবে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ফুটবলপাগল এই দেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার না হওয়া কল্পনাও করা যায় না। সরকার কিংবা বেসরকারি উদ্যোগ- যেকোনোভাবেই হোক দর্শকদের জন্য খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
সম্প্রচার বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই আলোচনা চূড়ান্ত না হলে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, বিপণন ও সম্প্রচার পরিকল্পনা সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে বাংলাদেশের দর্শকেরা এবারের বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এএডি/