পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নাটকীয় ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক। দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ছিন্ন করে ইরান এখন আমিরাতকে ‘শত্রু ঘাঁটি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানকে পুনরায় আক্রমণ করে, তবে আমিরাতের ওপর এর চেয়েও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।
ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্য আলি খেজরিয়ান সরাসরি আমিরাতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমিরাতের ওপর থেকে আমাদের ‘প্রতিবেশী’ লেবেলটি আপাতত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং দেশটিকে এখন আমাদের জন্য একটি ‘শত্রু ঘাঁটি’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সাথে আমিরাতের ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’ বা সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তিই এই বিরোধের মূল বীজ বপন করেছিল। বর্তমান ইরান যুদ্ধের সময় ইসরায়েল তার অত্যাধুনিক ‘আয়রন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সেটি পরিচালনার জন্য কয়েক ডজন সৈন্য আমিরাতে পাঠিয়েছে। ইরানের দাবি, আমিরাত এখন ইসরায়েল ও আমেরিকার সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ‘ফুজিরা’ বন্দরটি হরমুজ প্রণালীর এমন এক অংশে অবস্থিত যা ইরানের নৌ-নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর ফলে ওই বন্দর অভিমুখী যেকোনো জাহাজ ইরানের আওতাভুক্ত বলে তেহরান মনে করছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে ইরানে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হওয়ায় দেশটি এখন আমিরাতকে এড়িয়ে পাকিস্তান, তুরস্ক ও ইরাকের মাধ্যমে বিকল্প স্থলপথ খোঁজার চেষ্টা করছে।
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে কয়েশ দ্বীপে ইরানের একটি জল শোধনাগারে হামলার ঘটনায় আমিরাতের যুদ্ধবিমান সরাসরি জড়িত ছিল বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যম দাবি করলেও আবুধাবি তা অস্বীকার করেছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এমন অনেক ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে আমিরাতের ব্যবহৃত ফরাসি ‘মিরাজ’ যুদ্ধবিমান এবং চীনা ড্রোন ইরানের আকাশসীমায় দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের এই হুমকির মুখে হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারা ইতিমধ্যে দেশটিতে বসবাসরত ইরানিদের ভিসা বাতিল করেছে এবং ইরানি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিম আল-হাশিমি বলেছেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও ছায়া যুদ্ধের পেছনে সম্পদ অপচয় করে এখন নিঃস্ব হয়ে আমিরাতের সমৃদ্ধি ও অর্থনীতির ওপর আঘাত হানছে।
/কহু