সকালে কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কেউ ওজন কমাতে, কেউ আবার ঠান্ডা-কাশি দূর করতে নিয়মিত মধু পান করেন। তবে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানেন না- অতিরিক্ত গরম করলে মধুর প্রাকৃতিক গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধু যতটা উপকারী, ভুলভাবে খেলে ততটাই কমে যেতে পারে এর কার্যকারিতা।
মধুতে রয়েছে প্রাকৃতিক এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ ও ভিটামিন। এগুলো শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং হজমে সহায়তা করতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে এলে এসব উপাদান ধীরে ধীরে কার্যকারিতা হারাতে শুরু করে।
বিশেষ করে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় দীর্ঘসময় থাকলে মধুর স্বাভাবিক পুষ্টিমান কমে যেতে পারে।
আরও পড়ুন
পুষ্টিবিদদের মতে, অতিরিক্ত গরম করলে মধুতে ‘হাইড্রক্সিমিথাইলফুরফুরাল’ নামে একটি রাসায়নিক যৌগ তৈরি হতে পারে। সংক্ষেপে একে এইচএমএফ বলা হয়। সীমার বেশি এই যৌগ শরীরের জন্য ভালো নয় বলে মনে করা হয়।
যদিও স্বল্পমাত্রায় এটি খুব ক্ষতিকর নয়, তবে নিয়মিত অতিরিক্ত গরম মধু খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কাঁচা মধুতে থাকা প্রাকৃতিক এনজাইম খাবার হজমে সাহায্য করে। কিন্তু ফুটন্ত পানিতে মধু মেশালে এসব উপকারী এনজাইম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে শরীর মধুর পূর্ণ উপকারিতা পায় না।
অনেকেই খুব গরম চা বা পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করেন। এতে কারও কারও ক্ষেত্রে গলা জ্বালাপোড়া, অ্যাসিডিটি কিংবা পেটের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গরম পানীয়ের সঙ্গে মধু না মেশানোই ভালো।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকালে মধু খাওয়ার প্রবণতা অনেকের মধ্যে রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে পানির তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, ফুটন্ত নয়- হালকা কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এতে মধুর উপকারী উপাদান অক্ষুণ্ন থাকে।
স্বাস্থ্যসচেতনদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ- মধু খাওয়ার সময় শুধু পরিমাণ নয়, এর ব্যবহার পদ্ধতির দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। তাহলেই মিলবে প্রাকৃতিক এই খাবারের সর্বোচ্চ উপকারিতা।
এএডি/