ফ্লোরিডায় বন্দুক হামলার ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছে চ্যাটজিপিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কি মানুষকে অপরাধে প্ররোচিত করতে পারে এই প্রশ্ন এখন বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক বিতর্ক তৈরি

2026-05-13T14:58:47+00:00
2026-05-13T15:06:08+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ফ্লোরিডায় বন্দুক হামলার ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছে চ্যাটজিপিটি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ২:৫৮ পিএম  আপডেট: ১৩.০৫.২০২৬ ৩:০৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কি মানুষকে অপরাধে প্ররোচিত করতে পারে এই প্রশ্ন এখন বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার সরাসরি আঙুল তুলেছেন জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই’র দিকে। তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে ফিনিক্স ইকনর নামের এক ছাত্র ক্যাম্পাসে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে দুইজনকে হত্যা করে এবং ছয়জনকে আহত করে। অভিযোগ করা হচ্ছে, এই ঘটনার আগে সে কোনো মানুষের সঙ্গে নয়, বরং চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলেছিল এবং বিভিন্ন ধরনের তথ্য জানতে চেয়েছিল।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সে চ্যাটবটকে প্রশ্ন করেছিল কোন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করলে বেশি ক্ষতি করা সম্ভব হবে, এবং কখন ও কোথায় হামলা করলে বেশি মানুষ হতাহত হতে পারে। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, চ্যাটবট তাকে কিছু পরামর্শমূলক তথ্যও দিয়েছে, যার মাধ্যমে সে হামলার পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়। আরও বলা হয়, তাকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে শিশুদের উপস্থিতি থাকলে ঘটনাটি বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করবে।

এই তথ্য সামনে আসার পর ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার বলেন, যদি এটি একজন মানুষের কাজ হতো, তবে তাকে সরাসরি হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হতো। তিনি এ ঘটনার জন্য ফৌজদারি তদন্তের কথাও জানান। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, শুধু ব্যক্তি নয়, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বা দায়ী পক্ষের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে আগে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। যেমন ওপিওয়েড সংকটে পারডু ফার্মা বা পরিবেশ দূষণের ঘটনায় ফক্সওয়াগন। তবে সেই সব ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত বা অবহেলার পেছনে মানবসংশ্লিষ্ট ভূমিকা ছিল। এবার প্রথমবারের মতো প্রশ্ন উঠেছে একটি প্রযুক্তিগত পণ্যকে ঘিরে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি প্রমাণ হয় যে কোনো প্রযুক্তি অপরাধে উৎসাহ দিয়েছে, তাহলে এটি ‘অবহেলা’ বা ‘বেপরোয়া আচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে আদালতে এটি প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন হবে। অন্যদিকে, ওপেনএআই নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা সবসময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার চেষ্টা করছে এবং চ্যাটজিপিটি কোনোভাবেই এই ঘটনার জন্য দায়ী নয়।

এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও একটি মামলা হয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে চ্যাটজিপিটির প্রভাবে এক অবসরপ্রাপ্ত নারীর মৃত্যু ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা এআই প্রযুক্তি নির্মাতাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। অনেক আইনবিদ মনে করেন, এখন শুধু মামলা নয়, প্রয়োজন একটি স্পষ্ট ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো, যা এখনো অনেক দেশেই পুরোপুরি তৈরি হয়নি।

আরবিএন 


  বিষয়:   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  এআই  ওপেনএআই 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: