পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক বোর্ডের অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থতার কারণে দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা

2026-05-13T15:13:38+00:00
2026-05-13T15:13:38+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক বোর্ডের অনুমোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম 
পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক বোর্ডের অনুমোদন। ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থতার কারণে দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের পথে এগোচ্ছে। এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

মঙ্গলবার (১২ মে) অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। অবসায়নের তালিকায় রয়েছে- এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতেও ব্যর্থ হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস পাওয়ার পর জুলাই থেকেই অবসায়ন কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
আরও পড়ুন

ব্যাংক রেজুলেশন আইনের আওতায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আরও দুজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

গভর্নর বোর্ড সভায় জানিয়েছেন, সরকার আগামী বাজেটে এই খাতে অর্থ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে। এর ভিত্তিতেই অবসায়নের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার পথে এগিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

উচ্চ খেলাপি ঋণ ও দুর্বল আর্থিক অবস্থার কারণে গত বছরের মে মাসে মোট ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ধাপে ধাপে কিছু প্রতিষ্ঠান তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশেষ করে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তার নাম জড়িয়েছে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বড় আর্থিক অনিয়মের ঘটনায়।

এএডি/


  বিষয়:   পাঁচ  আর্থিক  প্রতিষ্ঠান  বন্ধ  বাংলাদেশ  ব্যাংক  বোর্ড  অনুমোদন 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: