কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রামে বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে। প্রতিবছর বৈশাখ মাসের শেষ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় মেলাটি। চলবে সাত দিনব্যাপী। জানা যায়, মসূয়া গ্রামের এই জমিদার বাড়িতেই ১৮৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন সত্যজিৎ রায়ের পিতামহ প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী।
পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের আগেই উপেন্দ্র কিশোর রায় সপরিবারে কলকাতা চলে যান। ১৯২১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন বিখ্যাত বাঙালী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। তিনি কোনদিন মসূয়া না আসলেও এলাকায় জমিদার বাড়িটি সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি নামেই পরিচিত। সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষ হরিকিশোর রায় চৌধুরী প্রায় ২০০ বছর আগে শ্রী শ্রী কাল ভৈরবী পূজাকে উৎসবের মাত্রা দিতে বৈশাখী মেলার প্রচলন শুরু করেছিলেন। বর্তমানে সত্যজিৎ রায়ের বংশধরদের কেউ বাড়িতে বসবাস না করলেও গ্রামবাসীরা ধরে রেখেছেন মেলার ঐতিহ্যকে।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কারুকার্যখচিত জমিদার বাড়িটি সংস্কার করায় এর শোভা বর্ধিত হয়েছে। তাই জমিদার বাড়িটিকে ঘিরে পর্যটকদের আকর্ষণ বেড়েছে। ফলে এ বছর মেলা বেশ জাঁকজমক পূর্ণ হবে এমনটিই আশা করছেন আয়োজক ও এলাকাবাসী। জমিদার বাড়ির প্রায় ৪ একর ভূমিসহ আশপাশের বিশাল এলাকাজুড়ে বসেছে এই মেলা।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা মেলায় এসে রকমারি পণ্যের পশরা সাজিয়ে বসেছে। নাগরদোলাসহ শিশুদের বিনোদনের জিনিসপত্র এবার বেশি। এ বছর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মেলার ইতিহাসে সবোর্চ্চ নিলাম হয় ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। যা গত বছর ছিল ৭১ হাজার ৭০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, ইজারাদার নিলামের টাকা উঠাতে অতিরিক্ত ফি আদায় করছেন, যার ফলে তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
মসূয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য আব্দুল কুদ্দুস রতন জানান, প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ মেলা পরিদর্শন ও কেনাকাটার জন্য আসেন। কবি-সাহিত্যিকদের আগমন ঘটে মেলায়, হয় কবিতা পাঠ ও সাহিত্যচর্চা। সব মিলিয়ে এ মেলা হয়ে উঠেছে কটিয়াদীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, সুষ্ঠুভাবে মেলা উদযাপনের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
আরবিএন