মিয়ানমারের খনি সমৃদ্ধ মোগোক অঞ্চলে ১১ হাজার ক্যারেট ওজনের একটি বিশাল এবং বিরল রুবি বা রত্নপাথর আবিষ্কৃত হয়েছে। রত্নটি দেশটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত পাওয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম রুবি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার (১০ মে) মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এনডিটিভি এই চমকপ্রদ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোগ্রাম ওজনের এই মূল্যবান পাথরটি দেশটির রত্নপাথর শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত উচ্চ মান্দালয় এলাকার মোগোক অঞ্চলের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়। গৃহযুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংঘাত-কবলিত এই এলাকায় এমন বিশাল রত্নপাথরের সন্ধান পাওয়ায় আন্তর্জাতিক রত্ন বাজারে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানিয়েছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উৎসবের পরপরই এই অপরিশোধিত রুবিটি খনি শ্রমিকদের নজরে আসে। যদিও ১৯৯৬ সালে মিয়ানমারে পাওয়া ২১ হাজার ৪৫০ ক্যারেটের রুবির তুলনায় এর ওজন প্রায় অর্ধেক, তবুও বিশেষজ্ঞরা এর অসাধারণ গুণমান ও রঙের কারণে এটিকে অনেক বেশি মূল্যবান মনে করছেন।
বর্ণনায় বলা হয়েছে, পাথরটি হলদে আভাসহ আকর্ষণীয় বেগুনি-লাল রঙের এবং এটি অত্যন্ত প্রতিফলক ও স্বচ্ছ গুণসম্পন্ন। বিরল এই বৈশিষ্ট্যগুলো রত্নপাথরটিকে সংগ্রাহক ও বিশেষজ্ঞদের কাছে অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষিত করে তুলেছে।
ভৌগোলিকভাবে মোগোক ও মং সু অঞ্চল থেকে বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ রুবি উৎপাদিত হয়। মিয়ানমারের অর্থনীতির একটি বিশাল অংশ এই বৈধ ও অবৈধ রত্নপাথর ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘদিন ধরে গ্লোবাল উইটনেসের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো মিয়ানমারের রত্ন কেনা থেকে বিরত থাকার জন্য ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
তাদের অভিযোগ, এই রত্ন শিল্পের আয় বহু বছর ধরে দেশটির সামরিক সরকারকে বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা ও শক্তি জুগিয়ে আসছে। বিশেষ করে সংঘাত-কবলিত এলাকায় খনি পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে।
মিয়ানমারের এই বিশাল রত্ন আবিষ্কারের খবর এমন এক সময়ে এলো যখন দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাসত্ত্বেও খনি শিল্পে এমন বড় সাফল্য দেশটির রত্ন খাতের গুরুত্বকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
আবিষ্কৃত রুবিটি এখন সরকারি হেফাজতে রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত আর্থিক মূল্যায়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। এটি আন্তর্জাতিক নিলামে তোলা হবে নাকি জাতীয় সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সূত্র: এনডিটিভি
সময়ের আলো/টিএইচ