২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাসে আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করছে সরকার। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে গাজীপুরের বোর্ড বাজারে অবস্থিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, করোনাকালীন পরিস্থিতি ও বিভিন্ন কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে দীর্ঘ সেশনজট তৈরি হয়েছে, তা নিরসন করে শিক্ষাপঞ্জি স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ না বাড়িয়ে পাঠদান কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল করতে সরকার এই বাস্তবসম্মত সময়সূচি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের কোনো পদক্ষেপের কারণে যেন শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে মূল্যবান সময় নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সমাপ্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেশনজট পুরোপুরি দূর করতে ভর্তি ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়মিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে একই দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি বড় অংশ চলতি বছরের ডিসেম্বরে পরীক্ষা আয়োজনের বিরোধিতা করেন।
তাদের মতে, হঠাৎ করে এক বছরে চার মাস সময় কমিয়ে দিলে শিক্ষার্থীরা শিখন ঘাটতি ও প্রচণ্ড মানসিক চাপের মুখে পড়বে। তাই ধাপে ধাপে সময় এগিয়ে এনে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাসে নেওয়ার প্রস্তাবটি সভায় জোরালোভাবে উঠে আসে।
শিক্ষামন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মতামতের প্রতিফলন ঘটানো হবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। আইইউটি-র উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন বিভাগে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
সময়ের আলো/টিএইচ