প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১১:০৭ পিএম আপডেট: ১৩.০৫.২০২৬ ১১:০৮ পিএম
হিমালয়ের উঁচু পর্বত, দুর্গম পথ এবং প্রায়ই বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কৈলাস-মানসসরোবর তীর্থযাত্রাকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন তীর্থযাত্রাগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। ছবি : আল-জাজিরা নেপাল দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত বিরোধের কারণে আবারও ভারতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হলো হিমালয়ের একটি বিতর্কিত গিরিপথ, লিপুলেখ পাস, এটি ভারত-নেপাল ও চীনের সীমান্ত সংযোগস্থলে অবস্থিত।
নেপালের দাবি, লিপুলেখসহ লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি অঞ্চল তাদের ভূখণ্ডের অংশ। তারা বলছে, ১৮১৬ সালের সুগাউলি চুক্তি অনুযায়ী এই এলাকাগুলো নেপালের সীমানার মধ্যে পড়ে। কাঠমান্ডুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে জোর দিয়ে বলেছে যে এই অঞ্চল নেপালের সার্বভৌম ভূখণ্ড এবং এখানে ভারতের কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
একইসঙ্গে ভারত ও চীন ঘোষণা দিয়েছে তারা লিপুলেখ পাস দিয়ে কৈলাস-মানসসরোবর তীর্থযাত্রা আবার শুরু করতে সম্মত হয়েছে। এই তীর্থযাত্রা কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২০ সাল থেকে বন্ধ ছিল।
ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বন ধর্মাবলম্বী তীর্থযাত্রীরা উত্তর ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের মধ্য দিয়ে লিপুলেখ পাস ব্যবহার করে চীনের তিব্বতে প্রবেশ করবেন। একইসঙ্গে কিছু তীর্থযাত্রী ভারতের সিকিম রাজ্য দিয়ে আলাদা রুট ব্যবহার করবেন।
নেপাল এই সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, যেহেতু লিপুলেখ অঞ্চল নেপালের অংশ, তাই এই পথ ব্যবহার করে ভারত-চীন সমঝোতা নেপালের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের শামিল।
অন্যদিকে, ভারত সরকারের অবস্থান হলো, লিপুলেখ বহু দশক ধরেই তীর্থযাত্রার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯৫৪ সাল থেকেই এই রুট ব্যবহার করে কৈলাস-মানসসরোবর যাত্রা পরিচালিত হচ্ছে বলে ভারত দাবি করেছে।
ভারতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নেপালের এই ধরনের ভূখণ্ড দাবি ঐতিহাসিক তথ্য ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি একতরফা দাবি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেপাল ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ আবারও সামনে এসেছে এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে।
/ইউএমএইচ