গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার মরদেহ উদ্ধারের খবর গুজব বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তিনি পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, ফোরকান মোল্লার মরদেহ উদ্ধারের খবরটি গুজব। তবে তিনি পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের ব্রিফিংয়ের বাইরে যা বলা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন এক ব্রিফিংয়ে জানান, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে। পরিবারের সদস্য ও মামলার বাদীর ধারণা, ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা হতে পারেন। তবে মরদেহ উদ্ধার না হওয়ায় এবং ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
পুলিশ সুপার জানান, পাঁচ খুনের ঘটনার পরপরই ফোরকান মোল্লাকে গ্রেপ্তারে তিনটি দল মাঠে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে তার এলাকায় এবং আরেকটি দল বেনাপোলে অবস্থান নেয়, যাতে তিনি সীমান্ত পার হতে না পারেন।
পরে মেহেরপুরে এক বাস হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতু এলাকা থেকে পেয়েছেন।
এরপর পুলিশের একটি দল পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। সেখানে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নামেন। তিনি হাতের ব্যাগ ও মোবাইল ফুটপাতের ওপর রেখে প্রায় দেড় থেকে দুই মিনিট দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে রেলিংয়ে উঠে নদীতে লাফ দেন।
তিনি আরও জানান, ভিডিওটি নিহত শারমিনের বাবা এবং ফোরকানের ভাই জব্বারসহ পরিবারের সদস্যদের দেখানো হয়েছে। তারা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও ধারণা করছেন, এটি ফোরকান মোল্লা হতে পারেন। তবে মুখ পরিষ্কার না হওয়ায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। চালকের ভাষ্যমতে, ফোরকান নিজেকে আত্মীয়ের মৃত্যুর খবর জানিয়ে গাড়ি ভাড়া করেন। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখায় চালক তাকে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনটি ফোরকান মোল্লার বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা এখনো পাওয়া যায়নি। দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে, যাতে অজ্ঞাত মরদেহ পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা যায়।
গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), তিন মেয়ে মীম খানম (১৩), উম্মে হাবিবা ওরফে মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মোল্লা (২২)।
পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মোল্লার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। ঘটনার পর তিনি তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে জানান, পাঁচজনকে হত্যা করে তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশের তথ্যমতে, মরদেহের পাশে পাওয়া কিছু প্রিন্ট করা কাগজ থেকে জানা যায়, ফোরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করছে পুলিশ।
ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, ফোরকান মোল্লার মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার মরদেহ উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে পদ্মা সেতু থেকে লাফ দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
আরবিএন/কহু